আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনটি এখন উত্তপ্ত। কেন্দ্রীয় ‘সমঝোতার রাজনীতি’ আর তৃণমূলের ‘বাস্তবতার’ দ্বন্দ্বে এই আসনকে ঘিরে বড় ধরনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সমঝোতার সিদ্ধান্তে এখানে বিএনপি কোনো আনুষ্ঠানিক প্রার্থী দেয়নি, আসনটি ছেড়ে দেয়া হয়েছে গণঅধিকার পরিষদকে। তবে এই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ স্থানীয় বিএনপির বিশাল একটি অংশ।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর নিজের এলাকায় ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হয়েছেন। কিন্তু সমঝোতা অনুযায়ী তিনি স্থানীয় বিএনপির কাঙ্ক্ষিত সাংগঠনিক সমর্থন পাচ্ছেন না। উল্টো গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সিংহভাগ নেতাকর্মী প্রকাশ্যেই মাঠে নেমেছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে।
হাসান মামুন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন, তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বর্তমানে তিনি বহিষ্কৃত।
দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া হাসান মামুনের প্রভাব মাঠপর্যায়ে এখনো অটুট। গলাচিপা ও দশমিনায় তার আয়োজিত ঘরোয়া বৈঠকগুলোতে উপজেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সরব উপস্থিতিই তার প্রমাণ।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, ২০১৮ সালের নির্বাচনেও হাসান মামুন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন, কিন্তু তখন আওয়ামী লীগ থেকে আসা গোলাম মাওলা রনিকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। সেই সময়কার পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবার প্রকাশ্য বিদ্রোহে রূপ নিয়েছে।
প্রার্থী নুরুল হক নূর পরিস্থিতি স্বীকার করে বলেন, এলাকায় বিএনপির প্রায় ৯০ শতাংশ নেতাকর্মী বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন।
বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুনের দাবি, তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থে নয় বরং বিএনপিকে বাঁচাতে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, এখানকার মানুষ চায় এ আসনে বিএনপির নিজস্ব প্রার্থী থাকুক। এই সিট যদি একবার গণঅধিকার পরিষদকে ছেড়ে দেয়া হয়, তবে আগামী ৩০ বছরেও বিএনপি এই আসন ফিরে পাবে না।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পটুয়াখালী-৩ আসনে এখন ‘কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বনাম তৃণমূলের আবেগ’- এই দুই মেরুর লড়াই চলছে। হাসান মামুন কার্যত বিএনপির ছায়া প্রার্থী হিসেবেই ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের এই বিদ্রোহ এবং ভোটের মেরুকরণ নির্বাচনী ফলে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে জেলাবাসী।
এসকে/টিকে