শীতের সকালে কলকাতার প্রিয়া সিনেমা হল যেন পরিণত হয়েছিল এক অন্যরকম উৎসব প্রাঙ্গণে। তারকাদের ভিড়, ক্যামেরার ঝলক আর আলো-আড্ডার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হল বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড ‘সিনেমার সমাবর্তন’ ২০২৬। এ বছরের থিম ছিল বাংলা সিনেমার পর্দায় কালজয়ী নেগেটিভ চরিত্ররা। টলিউড গত দু’বছরে যেভাবে নানা বিতর্কে সরগরম, সেই প্রেক্ষিতে এই থিমকে অনেকেই প্রতীকী বলছেন।
পুরস্কারের মঞ্চে এ বছর কার্যত একক আধিপত্য দেখালেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়। তাঁর ছবি ‘সত্যি বলে সত্যি কিছু নেই’ জিতে নিল সেরা পরিচালক, সেরা সহ অভিনেত্রী, সেরা চিত্রনাট্য, সেরা সিনেমাটোগ্রাফি এবং সেরা সাউন্ড ডিজাইনিং ও মিক্সিং-সহ একাধিক পুরস্কার। তবে সেরা সহ অভিনেত্রী ও সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার যৌথভাবে পেয়েছেন সৌরসেনী মৈত্র ও চান্দ্রেয়ী ঘোষ, এবং আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্ত।
‘মায়ানগর’ ছবির জন্য আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্ত পেয়েছেন সেরা ছবি ও সেরা সম্পাদনার পুরস্কার। অন্যদিকে ‘গৃহপ্রবেশ’ ছবির জন্য সেরা অভিনেত্রীর সম্মান উঠেছে শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের হাতে। সেরা অভিনেতার পুরস্কার যৌথভাবে পেয়েছেন দেব ও পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়।
সহ অভিনেতা বিভাগে ‘ধূমকেতু’ ছবির জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন রুদ্রনীল ঘোষ। নবাগত বিভাগেও ছিল নতুন মুখের জয়জয়কার সেরা নবাগত অভিনেতা প্রসূন সোম, সেরা নবাগত অভিনেত্রী ইধিকা পাল, এবং সেরা নবাগত পরিচালক সৌরভ পালোধী।
নেগেটিভ চরিত্রের থিমের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সেরা ভিলেনের পুরস্কার জিতে নিয়েছেন সৌরভ দাস। সঙ্গীত বিভাগে সেরা মহিলা প্লেব্যাক সিঙ্গার হয়েছেন জয়তী চক্রবর্তী, সেরা পুরুষ প্লেব্যাক সিঙ্গার আরমান রশিদ খান, আর যৌথভাবে সেরা সঙ্গীত পরিচালক হয়েছেন জিৎ গাঙ্গুলী ও ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত।
আজীবন অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘সত্যজিৎ রায় জীবনকৃতি সম্মান’ প্রদান করা হয় বর্ষীয়ান অভিনেতা বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়কে। পাশাপাশি ‘ঋত্বিক ঘটক শতবার্ষিকী সম্মান’-এ সম্মানিত হন মাধবি মুখোপাধ্যায়।
সব মিলিয়ে এবারের ‘সিনেমার সমাবর্তন’ ছিল সৃজিতময়। তাঁর তিনটি ছবি মিলিয়ে মোট আটটি পুরস্কার প্রমাণ করে দিল, এই বছর টলিউডের গল্প বলার চালচিত্রে তাঁর প্রভাব কতটা গভীর।
পিআর/টিকে