সুইডেনে আশ্রয়ের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা গত চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
সোমবার ১২ জানুয়ারি, দেশটির সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে, যা ১৯৮৫ সালের পর সর্বনিম্ন।
তথ্য সূত্রে জানান, ২০২২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ডানপন্থী সংখ্যালঘু জোট সরকার অভিবাসন নীতিতে ধারাবাহিকভাবে কড়াকড়ি আরোপ করছে। এ নীতিতে বাইরে থেকে সমর্থন দিচ্ছে অভিবাসনবিরোধী সুইডেন ডেমোক্র্যাটরা। সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্থায়ী বসবাস ও নাগরিকত্ব পাওয়া কঠিন করা হয়েছে, পাশাপাশি স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যেতে ইচ্ছুক অভিবাসীদের জন্য আর্থিক প্রণোদনাও চালু করা হয়েছে।
অভিবাসন মন্ত্রী জোহান ফরসেল জানিয়েছেন, সরকার আরও কঠোর নীতি গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে প্রত্যাবাসন বাড়াতে নতুন আইন এবং নাগরিকত্ব নীতিতে অতিরিক্ত কড়াকড়ি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। শুধু অভিবাসীর সংখ্যা কমানো নয়, কারা সুইডেনে আসছে সেটিও এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ।
মাইগ্রেশন বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের বাদ দিয়ে ২০২৫ সালে সুইডেনে মোট অভিবাসীর সংখ্যা ছিল ৭৯ হাজার ৬৮৪ জন, যেখানে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮২ হাজার ৮৫৭। মোট অভিবাসনের মাত্র ৬ শতাংশ ছিল আশ্রয়প্রার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। তুলনামূলকভাবে ২০১৮ সালে এই হার ছিল ৩১ শতাংশ, তখন মোট অভিবাসীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার।
সাম্প্রতিক সময়ে কঠোর নীতির প্রভাবে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়া এবং কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বহিষ্কৃত অভিবাসীর সংখ্যাও বেড়েছে। ফরসেল জানান, প্রত্যাবাসন ইস্যুটি সরকারের জন্য এখন উচ্চ অগ্রাধিকার এবং আগামী বছরেও এ বিষয়ে নতুন আইন ও নাগরিকত্ব নীতিতে আরও কড়াকড়ি আসবে।
উল্লেখ্য, নর্ডিক অঞ্চলের আরেক দেশ ডেনমার্কেও ২০২৫ সালে আশ্রয় আবেদন ঐতিহাসিকভাবে কমেছে। গত নভেম্বরে দেশটিতে মোট ১ হাজার ৮৩৫টি আশ্রয় আবেদন নিবন্ধিত হয়, যার মধ্যে মাত্র ৮৩৯টি অনুমোদন পেয়েছে। ড্যানিশ অভিবাসন মন্ত্রী রাসমাস স্টোকলুন্ড জানিয়েছেন, শরণার্থীদের আগমন সীমিত করাই বর্তমানে সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
এমআই/টিএ