অনেক উচ্চাভিলাষ নিয়ে যোগ দিলেও মাত্র ৭ মাসেই শাবি আলনসোর রিয়াল মাদ্রিদ অধ্যায়ের ইতি ঘটেছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে হারের পরদিনই লস ব্লাঙ্কোদের কোচের পদ ছেড়ে দেন বায়ার লেভারকুসেনকে বুন্দেসলিগার শিরোপা এনে দেয়া এই কোচ। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে গতকালই (১২ জানুয়ারি) রিয়াল যুবদলের কোচ আলভারো আরবেলোয়া। তবে রিয়ালের পরবর্তী কোচ কে হতে পারে তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়ে গেছে।
শাবি আলনসোর উত্তরসূরি হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদের পরবর্তী কোচ হিসেবে ইয়ুর্গেন ক্লপকে নিয়েও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। যার প্রেক্ষিতে লিভারপুলের এই সাবেক কোচ মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন। মৌসুমের এই পর্যায়ে এসে আলোনসোকে বরখাস্ত করার ঘটনায় ক্লপ ‘সত্যিই অবাক’ বলে জানিয়েছেন এবং শূন্য হয়ে যাওয়া এই পদ থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছেন।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মাত্র সাত মাস দায়িত্ব পালনের পর শাবিকে বরখাস্ত করা হয়। রিয়ালের কোচ হিসেবে ৩৪টি ম্যাচ পরিচালনা করে ২৪টিতেই জয় এনে দিয়েছেন এই স্প্যানিশ। তবে কোচ হিসেবে তার শেষ ম্যাচ-স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনাল- সেখানে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিপক্ষে তার দল ৩-২ গোলে হেরে গেছে।
রিয়ালের কিংবদন্তি আলোনসো কোচ থাকাকালীন তার সঙ্গে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো সুপারস্টার খেলোয়াড়দের মতবিরোধ হয়েছিল বলে জানা যায়, যা শেষ পর্যন্ত তার অবস্থান নড়বড়ে করে ত্যুলেছিল। আপাতত অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেয়া আরবেলোয়ার জন্য এই পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হবে বলেই আশঙ্কা অনেকের।
এরই মধ্যে কে হবেন রিয়ালের পরবর্তী কোচ- তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। স্বাভাবিকভাবেই সেই তালিকায় উঠে এসেছে ক্লপের নাম। ২০২৪ সালে লিভারপুল ছাড়ার পর তিনি কোচিং পেশা থেকে দূরে আছেন এবং বর্তমানে রেড বুলের ‘হেড অব গ্লোবাল সকার’ হিসেবে কাজ করছেন।
৫৮ বছর বয়সী ক্লপ এই সময়ে কখনোই কোচ হিসেবে ফেরার ইঙ্গিত দেননি, মাদ্রিদের কোচের ‘হট সিট’ বসা তো দূরের কথা। শাবির আকস্মিক বিদায়ের খবরে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি রিয়ালের সঙ্গে নিজের নাম জড়ানো গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন।
সার্ভাস টিভি অন- এ বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করার সময় হঠাৎ ক্লপের ফোন বেজে উঠলে তাকে জিজ্ঞাস করা হয়–রিয়াল থেকে ফোন এসেছে কি- না? জবাবে এই জার্মান বলেন, ‘আসলে ফোন এসেছিল- তবে মাদ্রিদ থেকে নয়। তবে হ্যাঁ, কয়েকজন মানুষ মনে করেছে, এই বিষয় নিয়ে সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা দরকার।’
তিনি যোগ করেন, ‘প্রথমত, আমার মনে হয় এটা আরেকটা ইঙ্গিত যে সেখানে এই মুহূর্তে সবকিছু ঠিকঠাক নেই। জাবি আলোনসো, যে গত দুই বছরে লেভারকুসেনে নিজের অসাধারণ কোচিং প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছে। তার বয়স ও কাজের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় এটা বলা যায়। তাকে যদি মাত্র ছয় মাসের মাথায় মাদ্রিদ ছাড়তে বাধ্য করা হয়, তাহলে তা অনেক কিছুই বোঝায়।
একদিকে বোঝায়, আজকের ফুটবলে আর সময় দেওয়া হয় না। অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদে প্রত্যাশা যে কতটা বিশাল, সেটাও স্পষ্ট।’
ক্লপ বলেন, ‘গতকাল বার্সেলোনার কাছে একটি কাপ ফাইনাল হারার পর আবেগের বশে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক কিছু বলে দেয়। কিছুদিন ধরেই আমরা গুঞ্জন শুনছিলাম। আর এখন- আপনার প্রশ্নটা যদি সেদিকেই গিয়ে থাকে- তাহলে বলব, এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই, এবং এটা আমাকে কিছু ভাবতেও বাধ্য করেনি। আমি অবাক হয়েছি- এটা সত্যি, একেবারেই অবাক। এরপর কয়েকজন আমাকে মেসেজ পাঠিয়েছে, আর আমি বিভিন্ন ইমোজি দিয়ে উত্তর দিয়েছি।’
২০২৫ সালের অক্টোবরে ‘ডায়েরি অব সিইও’ পডকাস্টে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কোচিংয়ে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ক্লপ বলেছিলেন, ‘আমি বলেছি, আমি আর কখনো ইংল্যান্ডে কোনো দলকে কোচিং করাব না- মানে যদি লিভারপুল হয়, তাত্ত্বিকভাবে সেটা সম্ভব। আমি ঠিক জানি না। এখন আমি যা করছি, সেটা আমি ভালোবাসি। কোচিং মিস করি না। আমি এখনো কোচিং করি, তবে ভিন্নভাবে।’
ক্লপ যোগ করেন, ‘বৃষ্টির মধ্যে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা মিস করি না, সপ্তাহে তিনবার প্রেস কনফারেন্স, ১২টা ইন্টারভিউ- এসবও মিস করি না। ড্রেসিংরুমেও থাকতে চাই না। আমি প্রায় ১,০৮০টা ম্যাচ কোচিং করিয়েছি, তাই ড্রেসিংরুমে অনেক সময় কাটিয়েছি। আমি ড্রেসিংরুমে মারা যেতে চাই না- ওটা ভালো জায়গা না, গন্ধও থাকে।
হতে পারে ভবিষ্যতে কিছু একটা করব। আমার বয়স ৫৮, কয়েক বছর পর সিদ্ধান্ত নিতে পারি। কিন্তু আজই কি আমাকে বলতে হবে যে আমি আর কখনো কোচিং করাব না? ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, সেটা করতে হচ্ছে না। ভবিষ্যৎ কী নিয়ে আসে, সেটাই দেখব। এখন আমি এমন এক প্রকল্পে আছি, যেটা আমি সত্যিই ভালোবাসি। আমার বিশ্বাস, শতভাগ মনোযোগ না দিলে কোনো কাজ খুব ভালোভাবে করা যায় না।’
লিভারপুল ছাড়ার পর থেকে ক্লপের নাম বিভিন্ন চাকরির সঙ্গে জড়ালেও, তিনি সবসময়ই এসব গুঞ্জন দ্রুত উড়িয়ে দিয়েছেন। আপাতত বার্নাব্যুতে দায়িত্ব নেওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন চেলসির সাবেক কোচ এনজো মারেস্কা, যিনি নববর্ষের দিন স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ ছেড়েছেন। পাশাপাশি ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের তৃতীয় দফায় রিয়ালের কোচ হওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।
এমআই/টিএ