চলতি সপ্তাহেই এক্সটার সিটিকে ১০-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি। এফএ কাপের চতুর্থ রাউন্ডে পা রাখার তিন দিন পর কারাবাও কাপেও জয়ের ধারা ধরে রাখল তারা। গতকাল (মঙ্গলবার) সেমিফাইনালের প্রথম লেগে নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে ২-০ গোলে হারিয়েছে সিটি। এই জয়ে লিগ কাপের ফাইনালে এক পা দিয়ে রাখল তারা।
পাঁচ মিনিটের মধ্যেই নিউক্যাসলের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল। অ্যান্থনি গর্ডন ডানদিকে থাকা জ্যাকব মার্ফিকে একটি চমৎকার পাস বাড়িয়েছিলেন এবং মার্ফি দ্রুত ক্রস করেন ইউয়ানে উইসার উদ্দেশ্যে। উইসা বলটি নিয়ন্ত্রণে নিলেও বাঁপায়ের শটে সেটি জেমস ট্র্যাফোর্ডের ক্রসবারের অনেক উপর দিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন।
সিটির পাল্টা আক্রমণ ছিল সুসংগঠিত। দুই উইঙ্গার জেরেমি ডোকু এবং সেমেনিও নিউক্যাসলকে তাদের নিজেদের অর্ধে চেপে ধরেন। অষ্টম মিনিটে বার্নার্ডো সিলভার একটি ক্রস গোলমুখে অপেক্ষারত আর্লিং হালান্ডের কাছে পৌঁছানোর আগেই গোলরক্ষক নিক পোপকে তা আঙুলের ছোঁয়ায় সরিয়ে দিতে হয়।
১৫তম মিনিটে গর্ডনের ক্রস থেকে জোয়েলিন্টন একটি হেড নিলেও তা পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। ব্রাজিলিয়ান এই মিডফিল্ডার মাঝমাঠে বেশ আক্রমণাত্মক মেজাজে থাকায় স্বাগতিকরা ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করছিল। মাঠের বাইরে একটি তর্কের ঘটনায় জোয়েলিন্টন এবং নিকো ও'রিলি উভয়কেই হলুদ কার্ড দেখানো হয়। এছাড়া গর্ডনকে ফাউল করায় ফুল-ব্যাক মাথিউস নুনেসকেও বুকিং দেওয়া হয়, যার ফলে ম্যাচটি শারীরিক শক্তিমত্তার লড়াইয়ে রূপ নেয়।
প্রচণ্ড উত্তেজনা এবং প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবে শেষ হয় এবং কোনো গোলরক্ষককেই খুব বড় কোনো পরীক্ষা দিতে হয়নি।
বিরতির পর ৫০তম মিনিটে উইসার একটি লুপ করা হেড রুখতে ট্র্যাফোর্ডকে পুরো শরীর প্রসারিত করতে হয়। এরপর ব্রুনো গিমারেসের ফিরতি শট পোস্টে লাগলে নিউক্যাসল গোলবঞ্চিত হয়।
তবে ৫৩ মিনিটে সফরকারী সিটি লিড নেয়। ডোকুর ক্রস থেকে সিলভা বলটি বাড়িয়ে দেন সেমেনিওর দিকে, যিনি খুব কাছ থেকে বল জালে জড়ান।
সিটি অধিনায়ক বার্নার্ডো সিলভা আইটিভি স্পোর্টসকে বলেন, ‘সে শুধু একজন ভালো খেলোয়াড়ই নয়, একজন ভালো মানুষও, যা দলে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। সে সমষ্টিগতভাবে খেলতে চায়, সাহায্য করতে চায় এবং আনন্দ নিয়ে খেলে। সে যেভাবে শুরু করেছে তাতে আমরা দারুণ খুশি।’
৫৮ মিনিটে গিমারেসের একটি নিচু শট ট্র্যাফোর্ড তালুবন্দি করেন এবং লুইস হলের কর্নার থেকে সভেন বোটম্যানের হেড গোলরক্ষকের গায়ে লাগে। ৬৩ মিনিটে সেমেনিও আবারও বদলি খেলোয়াড় টিজানি রেইন্ডার্সের কর্নার থেকে বল পোপের পাশ দিয়ে জালে পাঠান। কিন্তু দীর্ঘ ভিএআর পর্যালোচনার পর হালান্ড অফসাইডে থাকায় গোলটি বাতিল হয়।
৭১ মিনিটে সান্দ্রো টোনালি একটি শট নিলেও তা পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি নিউক্যাসলের। ইনজুরি টাইমের নবম মিনিটে শেরকি, যাকে এর আগে দুইবার পোপ রুখে দিয়েছিলেন, অবশেষে সাফল্যের দেখা পান। বদলি খেলোয়াড় রায়ান আইত-নুরির সাথে বল আদান-প্রদান করে তিনি গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন।
টিজে/এসএন