ইউরোপিয়ান ফুটবলের সাবেক প্রধান মিশেল প্লাতিনি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কড়া সমালোচনা করেছেন। বৃহস্পতিবার দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইনফান্তিনো এখন আগের চেয়ে বেশি স্বৈরাচারী হয়ে উঠেছেন। তিনি ধনী ও ক্ষমতাবান মানুষের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন।
প্লাতিনি বলেন, ‘সে ভালো নাম্বার টু ছিল। কিন্তু ভালো নাম্বার ওয়ান নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘উয়েফায় সে খুব ভালো কাজ করেছে। কিন্তু তার একটি সমস্যা আছে। সে ধনী ও ক্ষমতাবান মানুষ পছন্দ করে। যাদের কাছে টাকা আছে। এটা তার চরিত্র।’
প্লাতিনি জানান, ‘নাম্বার টু থাকাকালেও সে এমন ছিল। কিন্তু তখন সে বস ছিল না।’
করোনার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে মনে করেন প্লাতিনি। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে মহামারির পর ইনফান্তিনো আরও বেশি স্বৈরাচারী হয়ে উঠেছে।’
২০২৬ বিশ্বকাপ হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। এই টুর্নামেন্টের আগে ইনফান্তিনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। তিনি একটি বিশেষ ফিফা শান্তি পুরস্কারও চালু করেন। গত ডিসেম্বরে বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠানে সেই পুরস্কার ট্রাম্পকে দেওয়া হয়।
২০১৬ সালে কেলেঙ্কারিতে জড়ানো সেপ ব্ল্যাটারের জায়গায় ফিফা সভাপতির দায়িত্ব নেন ইনফান্তিনো। তবে প্লাতিনির মতে, ইনফান্তিনোর ওপর থেকে চাপানো নেতৃত্ব ফিফাকে আগের চেয়ে কম গণতান্ত্রিক করেছে।
প্লাতিনি বলেন, ‘ব্ল্যাটারের সময়ের চেয়ে এখন গণতন্ত্র কম। ব্ল্যাটার সম্পর্কে যা খুশি বলা যায়। কিন্তু তার মূল সমস্যা ছিল, সে আজীবন ফিফায় থাকতে চেয়েছিল। সে ফুটবলের জন্য একজন ভালো মানুষ ছিল।’
বর্তমান ফুটবল প্রশাসকদের নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্লাতিনি। তিনি বলেন, ‘এখন যারা ফুটবল চালাচ্ছে, তারা শুধু কাজ করছে। ফুটবল হোক বা বাস্কেটবল, তাতে তাদের কিছু যায় আসে না। উয়েফা বা ফিফায় কাজ করলেই ফুটবলকে ভালোবাসতে হবে, এমন নয়।’
দীর্ঘদিন ধরেই ইনফান্তিনোর সমালোচক প্লাতিনি। তিনি অভিযোগ করেন, ব্ল্যাটার থেকে পাওয়া দুই মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁর অঘোষিত অর্থের বিষয়টি সুইস প্রসিকিউটরদের জানিয়ে ইনফান্তিনো তার ফিফা সভাপতির পথে বাধা দিয়েছিলেন।
এমআই/এসএন