বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের এক বক্তব্যে উত্তাল দেশের ক্রিকেটাঙ্গন। ক্রিকেটারদের নিয়ে তার করা বিরুপ মন্তব্যের প্রতিবাদস্বরূপ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিপিএলের ম্যাচে খেলতে নামেননি ক্রিকেটাররা। খেলোয়াড়দের নিয়ে এমন মন্তব্য করায় বিসিবির পক্ষ থেকে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিপিএলের ম্যাচ পরিদর্শনে মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে এসে সেই বিষয়ের অগ্রগতি সম্পর্কে জানালেন বিসিবি পরিচালক এবং বিপিএলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু।
গতকাল রাতে খেলোয়াড়দের সঙ্গে সভা করে তাদেরকে মাঠে ফেরানোর জন্য রাজি করায় বিসিবি। সেই সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে কারণ দর্শানো নোটিশ নিয়ে নাজমুলের প্রতিক্রিয়ার কথা জিজ্ঞেস করা হলে মিঠু জানান, নাজমুলের ঠিকানা তারা জানেন না, তাই নোটিশটা পাঠানো যাচ্ছে না। তবে আজ মিঠু জানিয়েছেন, নাজমুলের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছে, উত্তরের জন্য অপেক্ষা করছেন তারা।
এ প্রসঙ্গে মিঠু বলেন, ‘তার ফোন বাজছে, তিনি হয়তো আমাদের ফোন নেন (ধরেন) না। আমি যোগাযোগ করেছি, তার সঙ্গে কথা বলেছি। এখন যে পরিস্থিতি হয়েছে সেটা নিয়ে কথা বলেছি। হাই-হ্যালো করেছি, এই ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলিনি। কালকেই তো বলে দিয়েছি এই আমরা কী করছি। আগামীকাল ১১টা পর্যন্ত তার উত্তর দেওয়ার সময় আছে। আমরা তার উত্তরের অপেক্ষা করছি।’
বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে নাজমুল ইসলাম জবাব না দিলে কী করবে বিসিবি, এমন প্রশ্নের জবাবে মিঠু বলেন, ‘আমাদের ডিসিপ্লিন কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়ার কথা (কারণ দর্শানোর নোটিশ)। তিনি পরবর্তী ধাপটা দেখবেন। খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে, প্রক্রিয়া চলতে থাকবে।’
নাজমুল ইসলামের এই মন্তব্যের প্রভাব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মিঠু বলেন, ‘একেকজনের ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমি হলে হয়তো এই মন্তব্যই করতাম না। আমার কাছে তার এটা মোকাবিলা করা উচিত। তার আসা উচিত এবং এটা (বক্তব্য) পরিষ্কার করা উচিত। এই বক্তব্যের কারণে আমাদের কতটা ক্ষতি হয়েছে চিন্তা করেন, একটা দিন খেলা হয়নি। আরেকটা দিন খেলা না হলে বিপিএল হওয়ার সময়ই ছিল না। দর্শকদের কষ্ট হয়েছে, সবাই-ই একটা সমস্যায় পড়ে গিয়েছিলাম।’
এর আগে গতকাল সারা দিন ছিল উৎকণ্ঠা ও উত্তেজনায় ভরপুর এক দিন। বিসিবি পরিচালকের মন্তব্যের জের ধরে গত পরশু রাতে বিপিএল খেলতে মাঠে না নামার ঘোষণা দেন ক্রিকেটাররা। তারা ওই পরিচালকের পদত্যাগ দাবি করে মাঠে না নামার আল্টিমেটাম দেন। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের আগে ক্রিকেটারদের নানাভাবে অনুরোধ এবং আশ্বাস দিয়েও ফেরানো যায়নি মাঠে। কোনো আশ্বাসেই খেলতে রাজি ছিলেন না তারা।
গতকাল দিনের প্রথম ম্যাচ ছিল নোয়াখালী-চট্টগ্রামের। নির্ধারিত সময়ে সেটা না হলেও বিসিবি পরিচালককে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বিসিবি। পরে তাকে বিসিবির অর্থ বিভাগের দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেয় সংস্থাটি। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচেও মাঠে ফিরতে আগ্রহ দেখাননি ক্রিকেটাররা।
ফলে গুঞ্জন শোনা যায়, বিপিএলকে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করে দিতে পারে বিসিবি। কিছুক্ষণ সে ঘোষণাও আসে। তবে রাত ৯টার দিকে এক বিবৃতি দিয়ে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) জানায়, দুই শর্তে মাঠে ফিরতে প্রস্তুত ক্রিকেটাররা। এম নাজমুল ইসলামকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং তার পদত্যাগের কার্যক্রম চলমান রাখতে হবে।
কোয়াবের এই বিবৃতির পর বিপিএলের ভবিষ্যত নিয়ে একটি সভায় বসে বিসিবি। সেখানে আলোচনা চলমান থাকাবস্থায় রাতে কোয়াবের একটি দলও যায় বিসিবির গুলশান কার্যালয়ে। সেই সভা শেষেই আজ মাঠে নামার ঘোষণা দেন ক্রিকেটাররা।
এসকে/টিকে