মারাঠি অস্মিতায় শান দিয়েও লাভ হয়নি! আঠাশ বছর বাদে মুম্বাইয়ে ধুলিস্যাৎ ঠাকরেগড়। গেরুয়া শিবিরের দখলে চলে গেল বৃহন্মুম্বাই। আর পুরভোটে ঠাকরে ভ্রাতৃদ্বয়ের এহেন সর্বনাশে যেন কঙ্গনা রানাউতের পৌষ মাস। অতঃপর প্রতিশোধের উল্লাসে মাতার সুযোগও হাতছাড়া করলেন না ‘মনিকর্ণিকা’। সেইসঙ্গে উদ্ধবের হারে সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর থেকে বলিউডে কোণঠাসা হওয়া কঙ্গনারও যেন শাপমোচন ঘটল! অন্তত তেমনটাই মত সাংসদ-নায়িকার। ছেড়ে কথা বললেন না নেত্রী-অভিনেত্রী নিজেও। বৃহন্মুম্বাই পুরভোটে উদ্ধব ঠাকরের হারের পরই ফের চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানালেন তিনি।
এই মুহূর্তে বিএমসি থেকে শিবসেনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার আনন্দে আত্মহারা কঙ্গনা রানাউত। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, “মহারাষ্ট্রের বিএমসি নির্বাচনে বিজেপির এহেন বিধ্বংসী জয়ে আমি ভীষণ আনন্দ পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজি, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসজি এবং মহারাষ্ট্রের সমগ্র বিজেপি পরিবারকে এই অবিশ্বাস্য গেরুয়া ঝড়ের জন্য অভিনন্দন। এই জয় আমাদের সবার জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।”
তবে এখানেই অবশ্য থামেননি মাণ্ডির তারকা সাংসদ। ২০২০ সালের পুরনো কাসুন্দি ঘেঁটে কঙ্গনা মনে করালেন, “যারা আমাকে গালিগালাজ করেছিল, আমার বাড়ি ভেঙে দিয়েছিল, আমাকে অপমান করেছিল, এমনকী আমাকে মহারাষ্ট্র ছাড়ার হুমকি দিয়েছিল, আজ মহারাষ্ট্রই তাদের প্রত্যাখ্যান করল।” বলতে বলতে কঙ্গনার কণ্ঠে প্রতিশোধস্পৃহ সুর যেন আরও চড়ল! পাশাপাশি উদ্ধবকে ‘নারীবিদ্বেষী’ বলেও তোপ দাগেন তিনি। ঠিক কী মন্তব্য সাংসদ নায়িকার?
কঙ্গনার সংযোজন, “আমি আনন্দিত যে এমন নারীবিদ্বেষী, উৎপীড়ক এবং নেপো-মাফিয়াদের একেবারে যোগ্য জায়গা দেখিয়ে দিয়েছে জনতা জনার্দন।” কিন্তু শিবসেনার সর্বনাশে কেন পৌষ মাস কঙ্গনার? আসলে বছরখানেক আগে সুশান্তের মৃত্যুর পর বিএমসির তরফে বেআইনি নির্মাণের কারণ দেখিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল ‘প্রতিবাদী’ কঙ্গনার বাংলো এবং অফিসের একাংশ। তখনই সোশাল মিডিয়ায় এক ভিডিও বার্তায় উদ্ধব ঠাকরেকে একহাত নিয়েছিলেন নায়িকা।
কোনওরকম রেয়াত না করেই কঙ্গনা বলেছিলেন, “উদ্ধব ঠাকরে তোর কী মনে হয়? ফিল্ম মাফিয়াদের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়ে এরকমটা করলি। আজ আমার ঘর ভেঙেছে, কাল তোর অহংকার ভাঙবে। এটা সময়ের চাকা, মনে রাখিস।” এবার বৃহন্মুম্বাই ঠাকরেদের হাতছাড়া হতেই নেটভুবনের চর্চায় কঙ্গনা রানাউতের অতীত ভবিষ্যদ্বাণী। একাংশের মত, অভিনেত্রীর অভিশাপেই এহেন দুর্দশা উদ্ধব ঠাকরের।
কেএন/টিকে