উদাপাবনায় পৈতৃক বাড়িতে উপমহাদেশের কিংবদন্তি অভিনেত্রী সুচিত্রা সেনের ১২তম প্রয়াণ দিবস পালিত হয়েছে। দিনটিকে স্মরণ করে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ পুষ্পমাল্য অর্পণ ও স্মরণসভা করেছে।
গতকাল শনিবার জেলা শহরের গোপালপুর মহল্লার হেমসাগর লেনে অভিনেত্রীর পৈতৃক বাড়িতে সুচিত্রা সেনের ম্যুরালে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীরা। পরে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. রাম দুলাল ভৌমিকের সভাপতিত্বে ও অফসরার সঞ্চলনায় সুচিত্রা সেন স্মরণসভায় বক্তব্য দেন পাবনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের কার্যকরী সদস্য এ বি এম ফজলুর রহমান, সমাজকর্মী পূর্ণিমা ইসলাম, অর্থ সম্পাদক ড. হাবিবুল্লাহ, সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের উপদেষ্টা কৃষিবিদ জাফর সাদেক, সহসভাপতি ফরিদুল ইসলাম খোকন, দপ্তর সম্পাদক শিশির ইসলাম, কার্যকরী সদস্য মামুন সাব্বির। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিপিবির পাবনা জেলার সাধারণ সম্পাদক পান্না বিশ্বাস, পাবনা গণশিল্পী সংগঠনের সীমান্ত, সাংস্কৃতিক কর্মী হাসান মাহমুদ, বিপ্লব ভৌমিক প্রমুখ ।
স্মরণসভায় সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়ি উদ্ধারের দীর্ঘদিন পার হলেও বাড়িটিতে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা গড়ে না ওঠায় হতাশা প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, ‘বাড়িটিতে এখনো সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা করার কোনো কাজ হয়নি। দিন দিন বিষয়টি স্তিমিত হয়ে পড়ছে।
দ্রুত সুচিত্রা সেনের বাড়িটি আন্তর্জাতিক মানের সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা করা হোক।’
২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি না-ফেরার দেশে পাড়ি জমান উপমহাদেশের কিংবদন্তী এই মহানায়িকা। অনন্য অভিনয়ের কারণে আজও কোটি ভক্তের হূদয়ে সমুজ্জ্বল সুচিত্রা সেন। বাংলা সিনেমাকে তিনি নিয়ে গেছেন এক অন্য উচ্চতায়।
সুচিত্রা সেনের প্রকৃত নাম রমা দাশগুপ্ত। ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল বাংলাদেশের বৃহত্তর পাবনার সিরাজগঞ্জ মহকুমার ভাঙ্গাবাড়ী গ্রামে নানাবাড়িতে তাঁর জন্ম। পাবনা শহরের বাড়িতে কেটেছে তাঁর শৈশব-কৈশোর। বাবা ছিলেন স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত ও মা ইন্দিরা দেবীর পঞ্চম সন্তান ছিলেন সুচিত্রা সেন।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের আগে পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে যান তিনি। বড় পর্দায় সুচিত্রার যাত্রা শুরু হয় ১৯৫২ সালে। সব মিলিয়ে ৬০টি সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে বাংলা ৫৩টি এবং হিন্দি ভাষার সাতটি সিনেমায় তাঁকে দেখা গেছে।
টিজে/টিএ