মাত্র এক মাস আগে নতুন গাড়ি কিনে আনন্দে ভেসেছিলেন অহনা। সেই মুহূর্তের ভিডিও তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছিলেন, যেখানে ছিল উচ্ছ্বাস, হাসি আর নতুন শুরু নিয়ে স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্নের রেশ কাটতে না কাটতেই ঘটল এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা, যা মুহূর্তেই বদলে দিল পরিবেশের রং।
ঘটনাটি ঘটে যখন অহনা ও তাঁর স্বামী দীপঙ্কর রাস্তার এক পাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। ঠিক সেই সময় এক মদ্যপ চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁদের গাড়িতে সজোরে ধাক্কা দেন। আঘাতের তীব্রতায় গাড়ির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, চাকা বেঁকে যায় এবং কাঁচ ভেঙে ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। দুর্ঘটনার পর আতঙ্কিত দীপঙ্কর বারবার ফোন করেও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাননি বলে জানিয়েছেন।
যদিও শারীরিকভাবে দুজনেই বড় ধরনের আঘাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন, মানসিক ধাক্কা তাদের জন্য কম ছিল না। অহনা পরে মন্তব্য করেন, দুর্ঘটনা অস্বাভাবিক কিছু নয়, তবে যেভাবে সংশ্লিষ্টরা আচরণ করেছেন তা মেনে নেওয়া যায় না। তিনি স্থানীয় মানুষের উদাসীনতা ও কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তির আচরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দীপঙ্করও বলেন, সেদিন অহনা পাশে না থাকলে পরিস্থিতি হয়তো হাতাহাতির পর্যায়ে গড়াতে পারত।
নতুন গাড়ি এভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দুজনের মন খারাপ হলেও, কোনো ব্যক্তিগত ক্ষতি না হওয়ায় তারা কিছুটা স্বস্তিও পেয়েছেন। তবু এই ঘটনা তাদের মনে গভীর দাগ কেটেছে। ঝকঝকে নতুন গাড়ি এখন আর আগের মতো নেই, আর সেই সঙ্গে রয়ে গেছে দুর্ঘটনার তিক্ত স্মৃতি।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও সামনে এসেছে সড়ক নিরাপত্তা, দায়িত্বশীল চালনা এবং সামাজিক সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা। শুধু আইন নয়, মানবিকতা ও সংযমই যে এমন পরিস্থিতি এড়াতে পারে, সেটাই যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিল অহনা ও দীপঙ্করের এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা।
পিআর/টিকে