টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে খুব বেশি সময় বাকি নেই। তবে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে শঙ্কা এখনও কাটেনি। তবে এরই মাঝে খবর এসেছে, পাকিস্তান দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। এমন খবর প্রকাশ করেছে দেশটির সংবাদমাধ্যম পাকিস্তান অবজারভার। অন্যদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, বিশ্বকাপ বয়কট করবে না পাকিস্তান।
সূত্রের বরাত দিয়ে ‘পাকিস্তান অবজারভার’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে টিম ম্যানেজমেন্টকে অবহিত করা হবে। এছাড়া পাকিস্তান যদি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ না করে, সেটির বিকল্প পরিকল্পনা জমা দিতেও টিম ম্যানেজমেন্টকে নির্দেশ দিয়েছে পিসিবি।
নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না বাংলাদেশ। এমন সিদ্ধান্তে বাংলাদেশকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পাকিস্তান। তারা জানিয়েছে, বাংলাদেশের নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ যৌক্তিক ও ন্যায্য।
অন্যদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে ভিন্ন কথা। ‘রেভসস্পোর্টস’ তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছে, বাংলাদেশের দাবি আইসিসি প্রত্যাখ্যান করলেও বিশ্বকাপ বয়কট করবে না পাকিস্তান।
বাংলাদেশের ম্যাচগুলি ভারত থেকে স্থানান্তরিত না হলে, ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আইসিসি ইভেন্ট থেকে পাকিস্তানও কি সরে দাঁড়াবে? এমন প্রশ্নের জবাবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) একটি সূত্রের বরাত দিয়ে রেভস্পোর্টজ জানিয়েছে, ‘এটি পিসিবির অবস্থান নয়।’
পিসিবির এক সূত্র রেভসস্পোর্টসকে জানিয়েছে, ‘পাকিস্তানের এমন করার (বিশ্বকাপ না খেলার) কোনও কারণ নেই। কারণ আইসিসি পিসিবিকে বলবে যে, তারা ইতিমধ্যেই শ্রীলঙ্কায় তাদের ম্যাচ খেলছে। লোকেরা কেবল বিষয়টিকে ঘোলা করার জন্য এই ধরনের কথা বলে।’
ঘটনার শুরুটা হয় আইপিএলের এবারের আসরের নিলামের পর থেকে। এবারের আইপিএলের নিলাম থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। এরপর ভারতে কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর তোপের মুখে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে মোস্তাফিজকে বাদ দেয় কলকাতা।
বাংলাদেশের যুক্তি, যেখানে একজন ক্রিকেটারকেই নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ ভারত, সেখানে পুরো বাংলাদেশ দলকে কীভাবে নিরাপত্তা দেবে তারা। আর সে কারণেই ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ। ভারতের পরিবর্তে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় টুর্নামেন্ট খেলতে চায় বাংলাদেশ। এ বিষয়ে আইসিসির সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে বিসিবির। তবে এখনও এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
এমআই/এসএন