গত আট বছরে হিন্দি চলচ্চিত্রজগতে ধর্মীয় বিভাজন বেড়েছে বলে মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন এআর রহমান। তাঁর বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন গীতিকার ও চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতারও। তাঁর মতে, বিনোদন দুনিয়া কখনোই ধর্ম দেখে শিল্পী বাছাই করেনি, বরং যোগ্যতা ও কাজের মানকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এই বিতর্কের মধ্যেই প্রায় এক বছর আগের জাভেদের একটি মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।
বেশ কয়েকটি ভক্তিগীতি লিখেছেন জাভেদ আখতার, যার মধ্যে লগান ও স্বদেশ ছবির গান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সেই সময় এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, তাঁর শৈশবের সমাজ বর্তমান সময়ের তুলনায় একেবারেই আলাদা ছিল। তখনকার পরিবেশ ছিল অনেক বেশি মিশ্র, সহনশীল ও সাংস্কৃতিকভাবে মিলেমিশে থাকা।
জাভেদ জানিয়েছেন, তাঁর পরিবারে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান কঠোরভাবে পালনের চল ছিল না। তাঁর বাবা ও পুরো পরিবারই মূলত বামপন্থী ভাবধারায় বিশ্বাসী ছিলেন। তবু মুসলিম পরিবার হয়েও তাঁরা রাম ও কৃষ্ণের কাহিনি সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন। তাঁর কথায়, রামলীলা ও কৃষ্ণলীলা সম্পর্কে জ্ঞান পাওয়া ছিল তাঁদের বড় হওয়ার স্বাভাবিক অংশ। তিনি স্পষ্ট করেই বলেছেন, প্রয়োজনে তিনি রাম ও কৃষ্ণের ভজনও লিখতে পারেন, কারণ এই সংস্কৃতির সঙ্গে তিনি ছোটবেলা থেকেই পরিচিত ছিলেন।
জাভেদের মতে, তখন এসব বিষয় নিয়ে কোনো বিভাজন ছিল না। মানুষ ভিন্ন ধর্মের গল্প, উৎসব ও ঐতিহ্যকে স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করত। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন, সেই পরিবেশ কীভাবে ধীরে ধীরে হারিয়ে গেল, তা তিনি বুঝে উঠতে পারেন না।
তিনি আরও জানিয়েছেন, তাঁদের পরিবারে মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও তাঁর কাকিমা বাড়ির শিশুদের জন্য জন্মাষ্টমী পালন করতেন। বসন্তপঞ্চমীতে সবাই হলুদ পোশাক পরতেন, যা ছিল তখনকার সাংস্কৃতিক রীতির অংশ। কিন্তু বর্তমান সময়ে সেই মিলেমিশে থাকার চর্চা অনেকটাই কমে গেছে বলে তাঁর পর্যবেক্ষণ।
এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় আসার পর নেটাগরিকদের একাংশ বলছেন, আজ রহমান যে কথাগুলো বলেছেন, এক সময় একই সুরে কথা বলেছিলেন জাভেদ আখতারও। ফলে পুরো বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
এমকে/টিএ