ফ্যান্টাসি সিরিজ ‘গেম অব থ্রোনস’-এ ডেনেরিস টারগারিয়েন চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছেন অভিনেত্রী এমিলিয়া ক্লার্ক। এই তারকা সম্প্রতি তার কাজ ও অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন। এছাড়া তার অভিনীত সবশেষ ‘পনিসে’ সিরিজে অভিনেত্রী হ্যালি লু রিচার্ডসনের সঙ্গে মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে তার আনন্দের কথাও প্রকাশ করেন।
নতুন সিরিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ক্লার্ক জানান, তার আগের অনেক প্রকল্পের তুলনায় এবার কাজের গতিশীলতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ‘গেম অব থ্রোনস’খ্যাত এই তারকা বলেন, ‘এটি সত্যিই বড় একটি বিষয়। আমার বেশিরভাগ কাজেই সহশিল্পী হিসেবে একজন পুরুষ থাকতেন-প্রেমিক বা স্বামী চরিত্রে। কিন্তু এখানে (পনিসে) এই জগতে আমরা মাত্র দুজন নারী এবং আমাদের মধ্যে একটি আবেগঘন বোনের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। পর্দায় এমন সম্পর্ক খুব কমই দেখা যায়। আর এটাই ছিল কাজটি করতে চাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। আমি জানতাম এটি মজার একটি কাজ হবে।’
তবে ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের শক্ত অবস্থান সত্ত্বেও এমিলিয়া ক্লার্ক মনে করেন, হলিউডে লিঙ্গ বৈষম্য এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। তার ভাষায়, ‘লিঙ্গ বৈষম্য এখনো বজায় আছে। ধীরে ধীরে উন্নতি হলেও এখনো সেখানে একটি বড় বেতন বৈষম্য রয়েছে। তবে পশ্চিমা সমাজে আমরা এখন নারীদের মানসিক শ্রমকে স্বীকৃতি দিতে শুরু করেছি। নারীরা ঘরে ও বাইরে যে কাজ করে, তার স্বীকৃতিই আজ পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।’
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি বদলাচ্ছে ঠিকই কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই বৈষম্য সংস্কৃতির গভীরে জায়গা করে নিয়েছে। ক্লার্ক বলেন, ‘আমরা ভাগ্যবান যে এমন এক সংস্কৃতিতে বাস করছি, যেখানে নারীদের কথা বলার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু পৃথিবীর সব নারীর ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়।’
‘গেম অব থ্রোনস’-এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী তিনি যে খ্যাতি পেয়েছেন সেটা তার জীবনে ধীরে ধীরে প্রভাব ফেলেছিল বলেও জানান ক্লার্ক। অভিনেত্রী বলেন, ‘শুরুতে মানুষ আমাকে চিনত আমার চরিত্রের চেহারার জন্য, কারণ পরচুলাসহ সেই লুক বাস্তব জীবনের আমার চেহারা থেকে পুরোই আলাদা ছিল। আর যেহেতু সিরিজটি ফ্যান্টাসি ঘরানার, তাই মানুষের প্রতিক্রিয়াও ছিল অনেকটা হ্যালোইন পোশাকের মতো ভিন্ন ধরনের।’
তবে সিরিজের শেষ দিকের সিজনগুলোতে এই খ্যাতি তার জন্য চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে স্বীকার করেন ক্লার্ক।
গেম অব থ্রোনসের কারণে তাকে কি ধরনের খ্যাতির বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছিল উল্লেখ করে এ তারকা বলেন, ‘শেষ কয়েকটি সিজনে আমার প্যানিক অ্যাটাক হচ্ছিল। আমি মানুষকে ভালোবাসি, মানুষের সঙ্গে আড্ডা দিতে চাই। কিন্তু কখনো কখনো খ্যাতি সেই স্বাভাবিক জীবনযাপনকে বাধাগ্রস্ত করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যখন আমি আর সিরিজটিতে ছিলাম না, তখন পরিচিতিও কিছুটা কমে গেছে। খ্যাতি আসে, আবার চলে যায়- কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ হল, এটিই যেন সকালে ঘুম থেকে ওঠার একমাত্র কারণ না হয়।’
এমকে/টিএ