আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে প্রথমবারের মতো পোস্টারবিহীন প্রচারণার যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।
নতুন আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রচারণায় মাইক ব্যবহারের সময় ও শব্দের মাত্রায় সুনির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল দুপুর ২টার আগে এবং রাত ৮টার পর মাইক বা শব্দবর্ধনকারী কোনো যন্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন না।
এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম জারি করা হয়েছে:
মাইকের সংখ্যা: কোনো একক জনসভায় একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থীর পক্ষে একযোগে তিনটির বেশি মাইক্রোফোন বা লাউড স্পিকার ব্যবহার করা যাবে না। তবে সাধারণ প্রচারণার (যেমন: রিকশা বা ভ্রাম্যমাণ প্রচার) ক্ষেত্রে এই সংখ্যাগত সীমাবদ্ধতা প্রযোজ্য হবে না।
শব্দের মানমাত্রা: প্রচারকার্যে ব্যবহৃত মাইক বা শব্দবর্ধনকারী যন্ত্রের শব্দের তীব্রতা ৬০ ডেসিবেলের বেশি হতে পারবে না। এবারের নির্বাচনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো পোস্টারের অনুপস্থিতি। ইসির নতুন আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো ধরনের ডিজিটাল বা কাগজের পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যানার, লিফলেট বা ফেস্টুন অবশ্যই সাদা-কালো হতে হবে; কোনো রঙিন প্রচারসামগ্রী ব্যবহার করা যাবে না। প্রচারণায় কোনোভাবেই পলিথিন বা রেকসিন ব্যবহার করা চলবে না বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে কমিশন।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে ৩০০ আসনে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা এই নতুন নিয়মাবলি মেনে নির্বাচনী যুদ্ধে নেমেছেন।
এবি/টিএ