ভেনেজুয়েলার পর এবার প্রতিবেশী কিউবার ওপর চড়াও হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এরইমধ্যে দেশটির তেল আমদানি বন্ধে মার্কিন প্রশাসন নৌপথ অবরোধের কথা ভাবছে বলে দাবি করেছে গণমাধ্যম পলিটিকো। এদিকে, এমন পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কায় হাভানায় তেল পাঠানো অব্যাহত রাখার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করছে মেক্সিকো সরকার।
কিউবার ওপর তেল আমদানিতে এবার পূর্ণ অবরোধ আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় নিচ্ছে হোয়াইট হাউস- এমনটাই দাবি করেছে মার্কিন গণমাধ্যম পলিটিকো। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ পরিকল্পনায় সমর্থন দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সেই তেল পুনরায় বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ হারানোর মতো ঘটনা ইতোমধ্যে কিউবার অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে।
এর আগে গেল বুধবার ট্রাম্প প্রশাসন চলতি বছরের মধ্যেই কিউবা সরকারের পতন ঘটানোর পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছিল ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
এমন পরিস্থিতিতে কিউবায় তেল পাঠানো অব্যাহত রাখবে কি না, তা পর্যালোচনা করছে মেক্সিকো সরকার। এতে যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকোর বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা থেকেই এমন চিন্তাভাবনা করছে শেইনবাউম প্রশাসন। ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে একথা জানিয়েছে রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের হাতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর নাটকীয় গ্রেফতারের পর ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল পাঠানো বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিদ্যুৎ সংকট ও ব্যাপক ব্ল্যাকআউটে ভোগা কিউবার জন্য এখন মেক্সিকোই সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহকারী।
এদিকে মাদক পরিবহন সন্দেহে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে আবারও একটি নৌযানে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে একথা জানায় মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড- সাউথকম। মাদুরো ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতারের পর প্রথমবার নৌকায় হামলা চালালো যুক্তরাষ্ট্র।
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান ও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক আটকের ঘটনায় গেল শুক্রবারও রাজধানী কারাকাসে বিক্ষোভ করেন শত শত মানুষ। মার্কিন অভিযানের নিন্দা জানিয়ে অংশগ্রহণকারীরা অবিলম্বে মাদুরো দম্পতির মুক্তির দাবি জানান।
এমআই/এসএন