বিএনপি নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে ফেনী অঞ্চলে ইপিজেড স্থাপন এবং একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) ফেনী সরকারি কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘ফেনী আমার নানাবাড়ি এলাকা। এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। বিএনপি সরকার গঠন করলে ফেনী অঞ্চলে ইপিজেড স্থাপন করা হবে, যাতে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া ফেনীতে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর এলাকার মানুষের যেমন বিএনপির কাছে দাবি আছে, বিএনপিরও আপনাদের কাছে দাবি আছে। আর তা হলো– ধানের শীষকে জয়যুক্ত করা। আমরা যা বলব, তা করার চেষ্টা করব। গত ১৫ বছর মানুষের ভোটের অধিকার দাবিয়ে রাখা হয়েছিল। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার পালিয়েছে, এখন দেশ ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে।’
জনগণকে ক্ষমতার উৎস উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিয়ে পড়ে না থেকে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মনোযোগ দিতে হবে।
তারেক রহমান নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘ভোটের দিন তাহাজ্জুদের ওয়াক্তে উঠবেন। ভোট কেন্দ্রের সামনে জামাতে নামাজ আদায় করবেন।
তারেক রহমান নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়ে বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের সহযোগিতা হয়তো পুরো মাসের জন্য যথেষ্ট নয়, কিন্তু এটি অন্তত এক সপ্তাহের অভাব দূর করে সাধারণ মানুষের উপকার করবে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে সারা দেশে হেলথকেয়ার ব্যবস্থা চালুর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে হলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার এলাকা হিসেবে ফেনীর মানুষের দায়িত্ব অনেক বেশি।’
ভোটের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘ভোটের দিন তাহাজ্জুদের ওয়াক্তে উঠবেন। ভোট কেন্দ্রের সামনে জামাতে নামাজ আদায় করবেন। নিজের ভোট দিয়ে হিসাব বুঝে তবেই ঘরে ফিরবেন। কোনো ষড়যন্ত্র যেন আপনাদের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ধানের শীষ যতবার সুযোগ পেয়েছে, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। এবার সরকার গঠন করলে জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো পুনরায় শুরু করা হবে।
পিএ/টিএ