বরাবরই শান্ত স্বভাব আর প্রকৃতি প্রেমের বন্দনায় মেতে থাকেন দুই বাংলার উজ্জ্বল মুখ জয়া আহসান। এই বছরে এসে সেই অভিনেত্রীকে পাওয়া গেলো ভিন্ন রূপে। এভাবেও বলা যায়, প্রতিশোধপরায়ণ হিংস্র এক জয়ার দেখা মিললো ‘ওসিডি’র ট্রেলারে।
যেখানে তিনি বলছেন, ‘যতক্ষণ আছে প্রাণ, সরাবেন পৃথিবীর জঞ্জাল’! আবার সেটি সোশ্যালে শেয়ার করে অভিনেত্রী আরেক ধাপ এগিয়ে দিলেন নিজের ভেতরের ক্রোধ। লিখলেন, ‘পরিচ্ছন্নতার নেশা যখন হয়ে ওঠে নিখুঁত প্রতিশোধের ব্লুপ্রিন্ট’!
আজই (২৬ জানুয়ারি) মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত কলকাতার নতুন সিনেমা ‘ওসিডি’র ট্রেলার। মাত্র ১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের এই ঝলকেই দর্শকদের চমকে দিয়েছেন অভিনেত্রী। যার পুরোটাজুড়ে রয়েছে প্রতিশোধের ছাপ।
‘ওসিডি’ বা অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিজঅর্ডার—এমন একটি মানসিক সমস্যা, যা আক্রান্ত ব্যক্তির জীবনকে ধীরে ধীরে গ্রাস করে নেয়। পরিচালক সৌকর্য ঘোষাল এই জটিল মানসিক অবস্থাকেই যুক্ত করেছেন শৈশবের ভয়ংকর ট্রমা ও অপরাধপ্রবণতার সঙ্গে।
ট্রেলার ইঙ্গিত দেয়, কিভাবে শৈশবের এক অনভিপ্রেত অভিজ্ঞতা পরিচ্ছন্নতার নেশার সঙ্গে মিশে গিয়ে জন্ম দেয় একের পর এক অপরাধের।
ট্রেলারে উঠে আসে একটি নির্মম সত্য—শৈশবের কোনও দুঃসহ অভিজ্ঞতা, লিঙ্গনির্বিশেষে, সারা জীবন একজন মানুষের মনোজগতে গভীর ক্ষত তৈরি করে। সেই ক্ষত থেকেই জন্ম নিতে পারে ভয়ানক অপরাধপ্রবণ মানসিকতা। জয়া আহসান অভিনীত চরিত্রের মাধ্যমে সেই বাস্তবতাই পরতে পরতে ফুটিয়ে তুলেছেন নির্মাতারা।
সিনেমায় জয়া আহসানকে দেখা যাবে শ্বেতা নামের এক চিকিৎসকের ভূমিকায়। বাহ্যিকভাবে পরিপাটি ও সংযত এই নারীর জীবনের গভীরে লুকিয়ে রয়েছে এক অন্ধকার অতীত। শৈশবের সেই স্মৃতির কালো মেঘ তাকে তাড়া করে ফেরে প্রতিনিয়ত। পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়, যখন এক রোগী আচমকাই শ্বেতার সেই গোপন অতীত সম্পর্কে জেনে যায়—আর তার পরিণতি হয় চরম।
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ‘ওসিডি’তে শ্বেতার শেষ পরিণতি কী—সেই উত্তর মিলবে পশ্চিমবঙ্গের পর্দায়, ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে।
এই সিনেমার মাধ্যমেই ছোট পর্দার জনপ্রিয় মুখ ‘ভূতু’ খ্যাত আর্শিয়া মুখোপাধ্যায় বড় পর্দায় অভিষেক করতে চলেছেন। ছবিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন বাংলাদেশের ফজলুর রহমান বাবু, কলকাতার কৌশিক সেন, অনসূয়া মজুমদার ও কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এসএন