আর্সেনালের বিপক্ষে রোমাঞ্চর ম্যাচে জয়সূচক গোলটি এসেছে তাঁর নৈপুণ্যে। ম্যাচের শেষ দিকে ‘রেড ডেভিলদের’ হয়ে গোল করে বাধভাঙা উদযাপনে মেসে ওঠেন ম্যাথেউস কুনহা। তবে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডারের উদযাপন ছাড়িয়ে যায় মাত্রা। গোল করার পর টিভি ক্যামেরার সামনে আপত্তিকর শব্দ উচ্চারণ করে নিষেধাজ্ঞার শাস্তির শঙ্কায় আছেন কুনহা।
গত রোববার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের ঘরের মাঠ এমিরেটস থেকে ৩-২ গোলের জয় নিয়ে ফিরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ৬৯ মিনিটে বদলি নেমে ইউনাইটেডের হয়ে তৃতীয় ও জয়সূচক গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড। ৩-২ ব্যবধানের এই জয়ে লিগের শীর্ষ চারে উঠে আসে ম্যানইউ।
৮৭ মিনিটে গোল করার পর উদ্যাপনের সময় কুনহাকে টিভি ক্যামেরার দিকে কিছু বলতে শোনা যায়। ২৬ বছর বয়সী এই ফুটবলার ঠিক কী বলেছেন তা স্পষ্ট না হলেও, ম্যানচেস্টার ইভনিং নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর ব্যবহৃত ভাষার একটি অংশ ছিল আপত্তিকর। বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্কাই স্পোর্টসের ধারাভাষ্যকার পিটার ড্রুরি। কুনহার প্রতিক্রিয়ার পরপরই তিনি বলেন, ‘উদ্যাপনের মধ্যে যদি কেউ আপত্তিকর ভাষা শুনে থাকেন, সে জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।’
ম্যানচেস্টার ইভনিং নিউজ আরও জানিয়েছে, এই আচরণের কারণে নিষেধাজ্ঞার শাস্তি পেতে পারেন কুনহা। ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) নিয়ম অনুযায়ী, ‘অশালীন, অপমানজনক বা গালিগালাজপূর্ণ ভাষা অথবা অঙ্গভঙ্গি’ লাল কার্ডের যোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি)-এর খেলার আইন অনুযায়ী, ‘মাঠের উত্তেজনায় রেফারি সব সময় খেলোয়াড়ের গালিগালাজ শুনতে না পেলেও, যদি ঘটনাটি ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং ব্যাপকভাবে সম্প্রচারিত হয়, তাহলে এফএ পরবর্তীতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। এফএ টিভি ক্যামেরার লেন্সের দিকে সরাসরি গালিগালাজ করাকে খেলাটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে-এমন স্পষ্ট ও ইচ্ছাকৃত অসদাচরণ হিসেবে দেখে।’
মাঠে অবশ্য দারুণ ছন্দেই আছেন কুনহা। ম্যানচেস্টার ডার্বিতে ২-০ গোলের জয়ে একটি অ্যাসিস্ট করেন এই ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার। মাইকেল ক্যারিক ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ক্লাবটির দায়িত্ব নেওয়ার পর ইউনাইটেডের সঙ্গে দারুণ খেলছেন কুনহাও।
আর্সেনালের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করা কুনহার প্রশংসা করেন ম্যান ইউনাইটেডের কোচ ক্যারিক। গানারদের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয়ার্ধের ভালো শুরু, তারপর ম্যাথেউস বদলি নামা-তারপর গত সপ্তাহের মতোই বড় প্রভাব ফেলা। গত সপ্তাহে একটি বানিয়ে দিয়েছিল এবং আমি নিশ্চিত ছিলাম বলটা তার পায় থেকে আসবে। আমি সত্যিই আশা করছিলাম সে গোল করবে। আবারও অসাধারণ ফিনিশং। ম্যাথেউস দুই ম্যাচেই শুরু করেননি, কিন্তু বড় প্রভাব ফেলেছেন। সে শুরু করতে না পারায় হতাশ ছিল, তবে এটিকে খুব ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছে।’
এমআই/এসএন