নতুন জীবনের শুরুটা জমকালো আয়োজনের হলেও আবেগে ছিল ভরপুর। গত ২৩ জানুয়ারি দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বসেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার। বহুদিনের বন্ধু দেবমাল্য চক্রবর্তীর সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়েন তিনি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর রাজবাড়িতে ঘরোয়া অথচ রাজকীয় আয়োজনে সম্পন্ন হয় তাঁদের বিয়ে।
বিয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই রবিবার অনুষ্ঠিত হয় বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী শোভাবাজার রাজবাড়িতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রাচীন স্থাপত্যের আবহে সাজানো প্রতিটি খুঁটিনাটি নজর কেড়েছে অতিথিদের। আলো, ফুল ও নান্দনিক সাজে রাজবাড়ির পরিবেশ যেন আরও মোহময় হয়ে উঠেছিল।
সংবর্ধনার সন্ধ্যায় মধুমিতা সরকার পরেছিলেন গাঢ় লাল রঙের ভারী কাজ করা সিল্ক শাড়ি। সিঁথিতে দেবমাল্যের নামের সিঁদুর, হালকা গয়না ও স্নিগ্ধ মেকআপে অপরূপ লাগছিল অভিনেত্রীকে। অন্যদিকে দেবমাল্য চক্রবর্তীর পরনে ছিল ধবধবে সাদা শেরওয়ানি, যার বর্ডার জুড়ে ছিল সোনালি কারুকাজ। গলায় স্টাইলিশ হার ও হাতে দামি ঘড়িতে তাঁর সাজ সম্পূর্ণ হয়।
বিয়ে থেকে শুরু করে সংবর্ধনা- সব আয়োজনেই ছিল সাদামাটা অথচ রুচিশীল বাঙালিয়ানা। লাল-সাদা রঙে সাজানো বিয়ের মণ্ডপ, কালীপুজোর থিম এবং ভোলেবাবার ত্রিশূল দিয়ে সাজানো সংবর্ধনা মঞ্চ অতিথিদের নজর কাড়ে। খাবারের আয়োজনেও ছিল আভিজাত্যের ছাপ। টালিগঞ্জের বহু পরিচিত মুখ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
তবে সংবর্ধনার সন্ধ্যায় আলাদা করে নজর কাড়েন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মাধবীর সঙ্গে দেবমাল্যের আলাপ করিয়ে দিচ্ছেন মধুমিতা। হাসিমুখে অভিনেত্রী বলেন, ‘কেমন লাগল আমার বর? সুন্দর হয়েছে না?’ উত্তরে মাধবী মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘খুব সুন্দর হয়েছে। তোর বিয়েতে আশীর্বাদ করতে আসব না, তা কি কখনও হয়?’
প্রসঙ্গত, বর্তমানে মধুমিতা সরকার ব্যস্ত রয়েছেন ‘ভোলেবাবা পার কারেগা’ ধারাবাহিকের কাজ নিয়ে। অন্যদিকে দেবমাল্য চক্রবর্তীর কর্মজীবন বিনোদন জগতের বাইরে, তিনি তথ্যপ্রযুক্তি পেশার সঙ্গে যুক্ত। ছোটবেলার বন্ধুত্ব থেকেই ধীরে ধীরে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাঁদের মধ্যে। অবশেষে সেই সম্পর্কই পেল আজীবনের সামাজিক স্বীকৃতি।
এসকে/এসএন