বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ৭ম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি (বিশেষ)-২০২৬-এর আওতায় দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এন্ট্রি লেভেলের শূন্যপদে ১১ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থীকে নিয়োগের সুপারিশ করেছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এনটিআরসিএর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে জানানো হয়, দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এন্ট্রি লেভেলের মোট ১ লাখ ৮২২টি শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে গত বছরের ১৬ জুন ২০২৫ তারিখে ৬ষ্ঠ নিয়োগ সুপারিশের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ আগস্ট ২০২৫ তারিখে মোট ৪১ হাজার ৬২৭ জন প্রার্থীকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়।
এদিকে, গত ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ, নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন বিধিমালা-২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। ৬ষ্ঠ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা এবং শিক্ষক নিবন্ধন প্রত্যয়নপত্রের মেয়াদ ৪ জুন ২০২৫ তারিখে সর্বোচ্চ ৩৫ বছর এবং নিবন্ধন পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ থেকে তিন বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার শর্ত উল্লেখ ছিল।
এর ধারাবাহিকতায় নতুন বিধিমালার আলোকে পরীক্ষা গ্রহণের আগে বয়স ও প্রত্যয়নপত্রের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে ১৭তম ও ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের জন্য গত ৪ জানুয়ারি ‘৭ম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি (বিশেষ)-২০২৬’ প্রকাশ করা হয়। এতে স্কুল ও কলেজে ২৯ হাজার ৫২১টি, মাদ্রাসায় ৩৬ হাজার ৭৭৬টি এবং কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানে ৮৩৩টিসহ মোট ৬৭ হাজার ১৩০টি শূন্যপদের কথা উল্লেখ করা হয়।
এ বিজ্ঞপ্তির আওতায় গত ২৩ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ই-রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পরে ১৯ নভেম্বর থেকে ২৮ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ই-রিকুইজিশনের মাধ্যমে শূন্যপদের চাহিদা সংগ্রহ করা হয়। এসময় ১৯ হাজার ২০৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সর্বমোট ৬৭ হাজার ১৩০টি শূন্যপদের চাহিদা পাওয়া যায়।
তবে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৪৩টি শূন্যপদের চাহিদা বাতিল করা হয়। ফলে অবশিষ্ট ৬৭ হাজার ৮৭টি শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন গ্রহণ করা হয়। নিবন্ধিত প্রার্থীদের কাছ থেকে গত ১০ জানুয়ারি থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত অনলাইনে মোট ১৮ হাজার ৩৯৯টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ১ হাজার ২৭ জন প্রার্থীর ইনডেক্স সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তাদের আবেদন বাতিল করা হয়।
এনটিআরসিএর নির্ধারিত গাইডলাইন অনুযায়ী প্রার্থীদের মেধাক্রম ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের তৈরি সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় ৫ হাজার ৭৪২ জন, মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় ৪ হাজার ২৫৫ জন, কারিগরি শিক্ষায় ৩৫৪ জন, কারিগরি ও মাউশির সংযুক্ত প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার ১৫৫ জন এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি সংযুক্ত প্রতিষ্ঠানে ২০৭ জনসহ মোট ১১ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থীকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।
টিজে/এসএন