যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এবার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ইরান ‘নোটিস টু এয়ারমেন’ (নোটাম) জারি করে জানায়, ২৭ থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রণালির আশপাশে লাইভ-ফায়ার সামরিক মহড়া চালানো হবে। এ সময় পাঁচ নটিক্যাল মাইল এলাকার মধ্যে ভূমি থেকে ২৫ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত আকাশসীমা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে। খবর জিও নিউজের।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামান্য অস্থিরতাও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছায়। এ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের দিকে একটি সুন্দর আর্মাডা এগিয়ে যাচ্ছে। আমি আশা করি তারা (তেহরান) একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে।’
ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ইরান ইস্যুতে সব ধরনের বিকল্প ইস্যু আলোচনার টেবিলে রয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান সতর্ক করে বলেছে, যেকোনো হামলার জবাব হবে ‘দ্রুত ও সর্বাত্মক’। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রের ‘হুমকি’কে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড হুঁশিয়ারি দিয়েছে, প্রতিবেশী কোনো দেশের ভূমি, আকাশ বা জলসীমা ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা হলে সেটিকে শত্রুতামূলক আচরণ হিসেবে দেখা হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে নিজেদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। এসব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় সংঘাতের শঙ্কা তীব্রতর হচ্ছে।
এমআর/টিএ