দক্ষিণ কোরিয়ার সমসাময়িক অভিনয় জগতের এক আলোচিত নাম কিম সিওন-হো (Kim Seon-ho)। ১৯৮৬ সালের ৮ মে জন্ম নেওয়া এই অভিনেতা শুরু থেকেই আলাদা ভাবে নজর কেড়েছেন তাঁর সংযত অভিনয়শৈলী, সূক্ষ্ম আবেগপ্রকাশ এবং স্বাভাবিক উপস্থিতির জন্য। অনেক কোরিয়ান তারকার মতো তিনি হঠাৎ করে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছাননি; বরং ধাপে ধাপে, পরিশ্রম আর দক্ষতার মাধ্যমে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশেও কিম সিওন-হো'র জনপ্রিয়তা বেড়েছে।
বিশেষ করে এদেশের ড্রামাপ্রেমী তরুণীদের নিকট কিম সিওন-হো বেশ জনপ্রিয় ও পছন্দের। কিম সিওন-হোর অভিনয়জীবনের ভিত্তি গড়ে ওঠে থিয়েটার মঞ্চে। দীর্ঘদিন মঞ্চে কাজ করার ফলে চরিত্রের মনস্তত্ত্ব বোঝা, সংলাপের গভীরতা এবং দেহভঙ্গির সূক্ষ্ম ব্যবহার—এসব বিষয়ে তিনি বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন। পরবর্তীতে টেলিভিশন ড্রামায় কাজ শুরু করলেও তাঁর অভিনয়ে থিয়েটারের সেই পরিণত ছাপ স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।
তিনি এমন এক ধরনের অভিনেতা, যিনি উচ্চস্বরে আবেগ দেখানোর চেয়ে নীরবতা আর চোখের ভাষায় বেশি কথা বলেন।
‘ক্যান দিস লাভ বি ট্রান্সলেটেড?’ সিরিজে গো ইয়ুন-জুং এর সঙ্গে
২০২০ সালে প্রচারিত ড্রামা Start-Up-এ ‘হান জি-পিয়ং’ চরিত্রে অভিনয় কিম সিওন-হোকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দেয়। মূল নায়ক না হয়েও তাঁর চরিত্রটি দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলে। চরিত্রটির ভেতরের কষ্ট, একাকীত্ব ও মানবিকতা তিনি এমনভাবে ফুটিয়ে তোলেন যে দর্শকদের একাংশ তাঁকেই গল্পের হৃদয় বলে মনে করতে শুরু করে।
এই ড্রামার পরই তাঁর জনপ্রিয়তা কোরিয়ার সীমানা পেরিয়ে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর হোম তাউন চা চা চা (২০২১) ড্রামায় ‘হং দু-শিক’ চরিত্রে কিম সিওন-হো আবারও প্রমাণ করেন কেন তিনি এত প্রিয়। সাধারণ গ্রামজীবন, মানুষের প্রতি সহমর্মিতা এবং অতীতের ব্যথা সবকিছু মিলিয়ে চরিত্রটিকে তিনি করে তুলেছিলেন উষ্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য। এই ড্রামা তাঁকে কেবল রোমান্টিক নায়ক হিসেবেই নয়, বরং একজন পরিণত অভিনেতা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করে।
তবে গত বছর ‘হোয়েন লাইফ গিভস ইউ ট্যানজারিন’ ওয়েব সিরিজটি নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেলে এদেশের দর্শকদের কাছে তা ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়।
বিশেষ করে এই সিরিজের প্রেম, জীবনের গভীর ও সূক্ষ্মতম বোধ মানুষের হৃদয়ে স্পর্শ করে যায়। এই সিরিজে মুখ্য চরিত্রে না থাকলেও অভিনয় করেছিলেন কিম সিওন-হো। তবে এ বছরের শুরুতেই মাতিয়ে দিলেন তিনি।
এ বছর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় ‘ক্যান দিস লাভ বি ট্রান্সলেটেড?’ এই সিরিজের মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেন কিম সিওন-হো। যার চরিত্রের নাম জো হো জিন। যিনি একজন বহুভাষীর চরিত্রে কাজ করেন। এই সিরিজে তার সঙ্গে জাপানে পরিচয় ঘটে চা মু হি নামের এক তরুণীর, যার অভিলাষ ছিল নায়িকা হবার। জো হো জিনকে জাপানে চা মু হি বলেছিলেন, আজ আমার ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার্স ৯ হাজার। একদিন আমার ফলোয়ার্স হবে ১০ মিলিয়ন। চা মু হি একদিন সত্যিই বড় একজন অভিনেত্রী হয়ে যান। সেটা কিভাবে? চা মু হি ড্রামায় ছোট ছোট চরিত্রে কাজ করতেন। তিনি ডোরামি নামের একটি ভৌতিক চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে শুটিং এর সময় বহুতল ভবন থেকে পড়ে যান। তার মৃত্য অবধারিত ছিল কিন্তু তিনি বেঁচে যান এবং কোমায় চলে যান। ৬ মাস পর কোমা থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরেন এবং দেখেন চা মু হি একজন বড় তারকা হয়ে গেছেন।
চা মু হি বড় তারকা হলেও আসলে জো হো জিনকে ভোলেন না। নানা নাটকীয়তার মাঝেও তিনি ভালোবাসেন জো হো জিনকে। কিন্তু জো হো জিনের প্রেমিকা তাকে ছেড়ে গিয়ে তার বড় ভাইকে মনস্থির করেন। চা মু হি ও জো হো জিনের মাঝে ভৌতিকভাবে চলে আসেন সেই চরিত্র ডোরামি, যা দুজনকে ক্রমেই বিভ্রান্ত করতে থাকে। এভাবেই ঘটনা এগোতে থাকে। চা মু হি চরিত্রে অভিনয় করেছেন গো ইয়ুন-জুং। জো হো জিনের চরিত্রে অভিনয় করা কিম সিওন-হো অভিনয় করেছেন অনবদ্য। ওই যে প্রথমেই তো বলা হলো- তিনি যতটা না মুখ দিয়ে বলেন, তারচেয়েও বেশি কথা বলে তার শরীর, চোখ, মুখ। এই অভিনয় দিয়েই তিনি তরুণীদের হৃদয়ে ঝড় তুলেছেন।
এমকে/টিএ