কলকাতা: ২০২৬ সালের সরস্বতীপুজোর প্রেক্ষাগৃহে হিন্দি ছবির দাপট অবশ্যই চোখে পড়েছে। সানি দেওলের ‘বর্ডার ২’ কোটির ক্লাবে পৌঁছে কলকাতার দর্শকপ্রিয় হলগুলোকে দখল করেছে। তবে বাঙালির বিশেষ দিনে মুক্তি পাওয়া তিনটি বাংলা ছবির প্রতিদ্বন্দ্বিতা তুলনামূলকভাবে ব্যর্থ হলো।
এই বছরের সরস্বতীপুজোয় মুক্তি পেয়েছে চন্দ্রাশিস রায়ের ‘বিজয়নগরের হীরে’, রাজ চক্রবর্তীর ‘হোক কলরব’ এবং অরিত্র মুখোপাধ্যায়ের ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’। নিয়ম অনুযায়ী, স্ক্রিনিং কমিটি বাংলা ছবিগুলোর জন্য সর্বপ্রথম প্রেক্ষাগৃহ বরাদ্দ করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে বাস্তবতা ভিন্ন কলকাতার বহু প্রেক্ষাগৃহে ‘বর্ডার ২’ দু’টো শো পেয়েছে, আর তিনটি বাংলা ছবির মধ্যে কেবল একটি শো পেয়েছে। বিনোদিনী প্রেক্ষাগৃহ ছাড়া অন্য কোথাও তিনটি বাংলা ছবিই একসঙ্গে স্থান পায়নি।
বক্সঅফিসের হিসাব বলছে, ‘বর্ডার ২’ এক সপ্তাহের মধ্যে কলকাতায় কয়েক কোটি টাকা আয় করেছে। বড় বাজেটের হিন্দি ছবির একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন প্রসেনজিত চট্টোপাধ্যায়ের ‘বিজয়নগরের হীরে’। চার বছর পর পরিচালক চন্দ্রাশিস ফিরিয়ে এনেছেন ‘কাকাবাবু-সন্তু’, যা বাঙালির আট থেকে আশি দর্শককে আনন্দ দিয়েছে। প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতা ও মহেন্দ্র সোনি জানিয়েছেন, প্রথম দু’দিনেই ৯০টিরও বেশি শো হাউসফুল হয়েছে।
হলমালিকরা জানিয়েছেন, বাকি দুটো বাংলা ছবি যথাযথ ব্যবসা করতে পারেনি। জয়দীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, “বিনোদিনী প্রেক্ষাগৃহে বাকি দুটি ছবি মোটামুটি ব্যবসা করেছে। তবে কোনও শো হাউসফুল হয়নি।” অন্য হলমালিকদেরও অভিমত একই আদৌ লাভ দেখেছে শুধু ‘কাকাবাবু আর সন্তু’।
নতুন সপ্তাহে মুক্তি পেয়েছে রানি মুখোপাধ্যায়ের ‘মর্দানি ৩’। ‘বর্ডার ২’-এর শো কমতে শুরু করেছে, আর উত্তর কলকাতার হলগুলো থেকে বাকি বাংলা ছবির স্থান সরে এসেছে। ব্যতিক্রম প্রসেনজিত অভিনীত ছবি, যা এখনও শহর এবং শহরতলির হলগুলোয় টিকে আছে।
হলমালিকরা একবাক্যে স্বীকার করেছেন, “প্রসেনজিৎ এখনও ধারে এবং ভারে কাটেন। বাঙালি দর্শক যে কোনও সময়ে তার ছবি দেখতে প্রেক্ষাগৃহে আসে, সেটা বারবার প্রমাণিত হয়েছে।”
এমকে/টিকে