সদ্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩-এর বিজয়ীদের নাম। সেই তালিকায় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে পরিচালক নিয়ামুল মুক্তার নাম। ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘রক্তজবা’-র জন্য তাঁকে ‘শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার’ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তবে পুরস্কার ঘোষণার পরপরই বিষয়টি ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক।
কারণ, নিয়ামুল মুক্তার দাবি-তিনি এই সিনেমার চিত্রনাট্য লেখেননি। বরং চিত্রনাট্য লিখেছেন মুহাম্মাদ তাসনীমুল হাসান তাজ, যিনি ছবিটিতে সহকারী পরিচালক হিসেবেও যুক্ত ছিলেন। এ অবস্থায় নিজের নামে ঘোষিত পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নিয়ামুল মুক্তা।
গণমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় পরিচালক বলেন, ‘এই সিনেমার চিত্রনাট্য আমার লেখা নয়।
চিত্রনাট্য লিখেছেন মুহাম্মাদ তাসনীমুল হাসান তাজ। আমি যে কাজ করিনি, তার জন্য পুরস্কার গ্রহণ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আমি এই পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করছি এবং চাই, তাজই এই সম্মান পাক।’
এ বিষয়ে তাজ জানান, তিনি ২০২২ সালের দিকেই ‘রক্তজবা’ সিনেমার চিত্রনাট্য সম্পন্ন করেন এবং বিষয়টি নিয়ে নিয়ামুল মুক্তার সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়েছিল।
ছবির টাইটেল কার্ডেও তার নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে প্রশ্ন উঠেছে সিনেমার টাইটেলে চিত্রনাট্যকারের নাম স্পষ্ট থাকা সত্ত্বেও কিভাবে এই বিভ্রান্তি তৈরি হলো? এ প্রসঙ্গে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুরি সদস্য ওয়াহিদ সুজন বলেন, ‘সিনেমাগুলো অনেক আগেই দেখা হয়। টাইটেল দেখা হলেও সব তথ্য মনে রাখা সব সময় সম্ভব হয় না। একটি ফর্মে বিভিন্ন ক্যাটাগরির নাম থাকে, সেখানে মার্কিং করা হয়। মূল আবেদনে কী নাম ছিল এবং তথ্য মন্ত্রণালয় যে ফরম্যাটে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করেছে, সেখানে কোনো ভুল হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার।
ঘটনাটি দুঃখজনক। আশা করি, এর সঠিক সমাধান হবে ‘
উল্লেখ্য, নুসরাত ইমরোজ তিশা ও শরিফুল রাজ অভিনীত ‘রক্তজবা’ প্রেক্ষাগৃহে নয়, বরং ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আইক্রিনে মুক্তি পায়। এই প্রথম কোনো ওটিটি–মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমার নাম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আসায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।
এমকে/টিকে