ছোটপর্দার গল্প নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়। অনেক অভিজ্ঞ শিল্পীই বারবার বলেছেন, ধারাবাহিকের চরিত্রে বৈচিত্র কমে যাচ্ছে, গল্পের ঘোরও আগের মতো টানে না। তবু আশ্চর্য ভাবে দেখা যায়, টলিপাড়ার এক বড় অংশ এখনও নিয়মিত ধারাবাহিকেই ব্যস্ত। প্রশ্ন ওঠে, ঠিক কোন আকর্ষণে নতুন প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা বারবার ছোটপর্দার দিকেই ফিরছেন।
প্রবীণদের একাংশ যখন একঘেয়েমির অভিযোগে দূরে সরে যাচ্ছেন, তখন মানালি দে, গীতশ্রী রায় কিংবা দীপান্বিতা রক্ষিতদের মতো শিল্পীরা ধারাবাহিককেই দেখছেন নিজের জায়গা হিসেবে। তাঁদের মতে, কাজের পরিসর বড় না ছোট সে বিভাজন ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হল নিয়মিত অভিনয়ের সুযোগ। প্রতিদিন ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর অভ্যাসই অভিনেতার দক্ষতাকে শান দেয়, আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, আর সেই ধারাবাহিকতাই ভবিষ্যতের বড় সুযোগের দরজা খুলে দিতে পারে।
ছোটপর্দার আর এক বড় টান দর্শকের কাছে দ্রুত পৌঁছে যাওয়ার ক্ষমতা। বড়পর্দায় সুযোগ সীমিত, প্রতিযোগিতা তীব্র। সেখানে ধারাবাহিক একজন নবাগত শিল্পীকে অল্প সময়েই পরিচিত মুখ করে তুলতে পারে। জনপ্রিয়তা, পরিচিতি, অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ সব মিলিয়ে এক ধরনের সামাজিক স্বীকৃতিও মেলে, যা অনেকের কাছে অভিনয়ের বড় প্রাপ্তি।
অর্থনৈতিক নিরাপত্তা অবশ্যই একটি কারণ, কিন্তু একমাত্র কারণ নয় বলেই মত শিল্পীদের। অনেকেই মনে করেন, ধারাবাহিক কেবল উপার্জনের জায়গা নয়, বরং নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার মজবুত মঞ্চ। গল্পের পুনরাবৃত্তি থাকলেও চরিত্রের ভিতর দিয়ে নিজস্ব ছাপ রাখার সুযোগ থাকে। তাই এক প্রজন্ম মুখ ফিরিয়ে নিলেও, নতুন প্রজন্মের চোখে ছোটপর্দা এখনও সম্ভাবনার উজ্জ্বল জানালা।
পিআর/টিকে