বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের দুই আলোচিত প্রতিষ্ঠান মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘স্পেসএক্স’ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্টার্টআপ ‘এক্সএআই’ একীভূত হতে যাচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার (আইপিও) আগেই নিজেদের অবস্থান ও শক্তি কয়েক গুণ বাড়াতে কোম্পানি দুটি একীভূত হওয়ার প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে।
মাস্কের এই দুই কোম্পানির একত্রীকরণের নেপথ্যে রয়েছে মহাকাশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই ডেটা সেন্টার’ স্থাপন করা এক সুদূরপ্রসারী ও উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা।
প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট এনগ্যাজেট জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে পৃথিবীর কক্ষপথেই এসব ডেটা সেন্টার বসানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই একত্রীকরণ প্রক্রিয়া সহজ করতে ২১ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যে দুটি নতুন প্রাতিষ্ঠানিক ইউনিট গঠন করা হয়েছে।
পরিকল্পনামাফিক সবকিছু এগোলে, এক্সএআই-এর বর্তমান বিনিয়োগকারীরা তাদের শেয়ারের বিনিময়ে স্পেসএক্সের শেয়ার পাবেন।
এর আগে মাস্ক ঘোষণা দিয়েছিলেন, মঙ্গলে মানুষের পদচিহ্ন না পড়া পর্যন্ত স্পেসএক্স পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হবে না তবে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে সম্ভবত চলতি বছরেই কোম্পানিটির আইপিও ঘোষণা করতে যাচ্ছেন তিনি।
সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে মাস্ক জানান, এআই পরিচালনার জন্য মহাকাশই হবে পৃথিবীর সবচেয়ে সাশ্রয়ী স্থান।
মাস্কের যুক্তি অনুযায়ী, মহাকাশে সরাসরি সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে এবং সেখানকার প্রাকৃতিকভাবে শীতল পরিবেশ ডেটা সেন্টার ঠান্ডা রাখার খরচ কমিয়ে আনবে।মাস্ক দাবি করেন, “আগামী দুই বা তিন বছরের মধ্যেই এটি বাস্তবে রূপ নেবে।”
মাস্কের কোম্পানিগুলোর একীভূত হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে মাস্কের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-কে কিনে নিয়েছিল এক্সএআই।এর ফলে এক্স এবং এআই চ্যাটবট ‘গ্রক’ একই ছাতার নিচে চলে আসে।
তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা মাস্কের মহাকাশ-কেন্দ্রিক এআই পরিকল্পনাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন।
তাদের মতে, মহাকাশে বিশাল বিনিয়োগের পর আদৌ খরচ কমানো সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এছাড়া, বর্তমান বিশ্বের ‘এআই জোয়ার’ যদি ভবিষ্যতে স্তিমিত হয়ে যায়, তবে মাস্কের এই উচ্চাভিলাষী প্রজেক্ট বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
কেএন/এসএন