পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে নির্বাচনি জনসভায় অংশ নিয়ে ভোট চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক আসসাদ আলী পামুলী ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও তাকে নির্বাচনি কর্মকর্তার তালিকায় রাখায় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে দেবীগঞ্জ উপজেলার পামুলী ইউনিয়নের ঢাঙ্গীরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিএনপি আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় এই ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, লক্ষীরহাট দ্বিমুখী দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক আসসাদ আলী ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে বক্তব্য দিচ্ছেন।
ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘ধানের শীষে ভোট দিলে ইহকালেও শান্তি পাবেন, পরকালেও মুক্তি পাবেন। অর্থাৎ ইহকালের শান্তি এবং পরকালের মুক্তির ব্যবস্থা হবে ইনশাআল্লাহ। আপনারা সকলে মিলে ধানের শীষে ভোট দিবেন। আর যেই দলটি আপনার আমার মা-বোনকে বেজ্জতিমূলক কথাবার্তা বলতেছে, এই দলটিকে-দাঁড়িপাল্লাকে-১২ তারিখের ভোটে লাল কার্ড দেখাবেন। সর্বোপরি ধানের শীষে ভোট চেয়ে, আজাদ ভাইয়ের গলায় জয়ের মালা আসুক-এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।’
এদিকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের স্বাক্ষরিত গত ২৭ জানুয়ারির সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ তালিকায় ১৩৫ নম্বরে আসসাদ আলীর নাম রয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আসসাদ আলীর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। একইভাবে মন্তব্য জানতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসানের সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে এ বিষয়ে পঞ্চগড় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামন বলেন,
এখনো প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার কিংবা পোলিং অফিসার নিয়োগ চূড়ান্ত হয়নি। তার নাম সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের প্রাথমিক তালিকাতেও নেই।’
ইউটি/টিএ