বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে এমন ন্যায়বিচার কায়েম করা হবে, যেখানে বিচার করতে গিয়ে দেখা হবে না কে প্রেসিডেন্ট আর কে সাধারণ মানুষ। যে অপরাধ করলে সাধারণ মানুষ শাস্তি পাবে, সেই একই অপরাধ প্রেসিডেন্ট করলেও তিনি শাস্তি পাবেন। একই বিচার ও শাস্তি হবে, বিচার আর কারো মুখের দিকে তাকিয়ে হবে না।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে তিস্তা ব্যারেজ হেলিপ্যাড মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা বসন্তের কোকিল না, আমরা বিপদের সময় দেশ ছেড়ে চলে যাইনি। আমরা বিপদের সময়ও দেশে পড়ে থাকি, মাটি কামড়ে পড়ে থাকি। ভবিষ্যতেও পড়ে থাকব। দেশবাসীর বুকেই বিছানা চাই, অন্য কোনো বিশ্ব আমাদের প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশ আমাদের যা দান করেছে, এটাই যথেষ্ট।’
দেশ থেকে পলাতক নেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এদেশ থেকে তারা চলে যায় কেন? যাদের নিজেদের সৃষ্ট ফ্যাসিবাদের যন্ত্রণা সহ্য হয় না। যারা মনে করে এদেশ নিরাপদ নয়, উন্নত নয়। দেশ উন্নত হতে বাধা দিয়েছিল কে? তোরা পালাক্রমে দেশ শাসন করলি, তাহলে এ দেশ উন্নত করলি না কেন?’
একটি দলের প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘একদল মতলববাজ ও ধান্দাবাজ জাতিকে বিভক্ত করতে চায়। জাতির মধ্যে হিংসা ও প্রতিহিংসা সৃষ্টি করে, চারদিকে পরস্পরের বিরুদ্ধে লাগিয়ে এরা দেশের সম্পদ লুট করেছে। রাজনীতি ব্যবসা নয়, রাজনীতি চাঁদাবাজি নয়। যুগ যুগ ধরে এলাকার মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের অনুভূতিকে সস্তা পুঁজি করে তারা ব্যবসা করেছে।’
নারীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে জীবন দেব, কিন্তু এদেশের মায়েদের গায়ে হাত দিতে দেব না। ঘরে, রাস্তায় এবং কর্মস্থলে তারা নিরাপদ থাকবেন। কর্মস্থলে তারা অত্যন্ত মর্যাদার সাথে কাজ করবেন। আমরা নারী জাতির জন্য সেটা নিশ্চিত করব।’
এমআর/টিকে