জামায়াতের আমির বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিকল্প ইতিহাস বর্ণনা করা শুরু করেছেন মন্তব্য করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নাকি প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করেননি; কর্নেল অলি নাকি বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। এমন বক্তব্য আসছে তাদের মুখ থেকে, যারা একসময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে উখিয়ার কোটবাজারে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শাহাজাহান চৌধুরীর নির্বাচনীয় জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধকে বিশ্বাস করেনি, যারা পাক হানাদার বাহিনীর সহযোগী ছিল, যারা এ দেশের মা-বোনদের ওপর নির্যাতনে সহায়তা করেছে, যারা মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে-তাদের মুখে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের ইতিহাস বর্ণনা মানায় না। তারা ইতিহাস বললে সেটি বিকৃত ইতিহাসই হবে-এটাই স্বাভাবিক। এই কারণেই বাংলাদেশের মানুষ প্রতিবাদ করেছে। মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিবাদ করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
আমরা স্পষ্টভাবে আহ্বান জানাই-বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করুন। স্বাধীনতা যুদ্ধে আপনারা যে ভূমিকা রেখেছেন, তার জন্য এই জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। বাংলাদেশের মানুষ আজও আপনাদের অনুতাপ দেখেনি। দয়া করে স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করবেন না। আপনারা যে রাজনীতি করতে চান-এই দেশের মানুষ তা গ্রহণ করে কিনা, সেটা জনগণের কাছেই পরীক্ষা করে দেখুন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারি খরচে, সরকারি ব্যবস্থাপনায়-স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থানসহ প্রতিটি খাতে আমরা কর্মসংস্থানভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি। লক্ষ্য একটাই-এই দেশের প্রতিটি মানুষের সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করা। আমরা চাই একটি বৈষম্যহীন, সাম্যভিত্তিক, সুবিচারভিত্তিক বাংলাদেশ-যেখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকবে। সেই বাংলাদেশ গড়তে হলে বিএনপির হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। ধানের শীষে একটি ভোট দিতে হবে। কারণ বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি হলো বিএনপি।
তিনি বলেন, বিএনপি এ দেশের জনগণের দল। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বিএনপি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বিএনপি। এ দেশের সকল ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগোষ্ঠীকে
একত্রিত করে যে রাজনৈতিক শক্তি-সেই দলের নাম বিএনপি। তাই বিএনপি ছাড়া বাংলাদেশের জন্য আর কোনো গ্রহণযোগ্য বিকল্প নেই।
বিএনপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। এ দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। তাই কৃষকই হচ্ছে এই দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। সরকার যদি নিশ্চিত করে যে কৃষকের উৎপাদিত সকল পণ্য ন্যায্য মূল্যে দেশের ভেতরেই বিক্রি হবে, তাহলে কৃষকের অর্থনৈতিক অবস্থা শক্তিশালী হবে। আর কৃষকের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী হলে জাতির মেরুদণ্ডও শক্তিশালী হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। কিন্তু শুধু ডিগ্রিধারী বেকার তৈরি করে এমন শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে একটি দেশ এগোতে পারে না। আমাদের লক্ষ্য হলো-১৮ কোটি মানুষের এই দেশে ৩৬ কোটি হাতকে কর্মক্ষম হাতে রূপান্তর করা। আমাদের সন্তানরা এমন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পাবে, যাতে তারা দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত হয় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ইনশাআল্লাহ, কেউ আর বেকার থাকবে না।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্বাস্থ্য খাতে আমরা একটি বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। প্রতিটি নাগরিকের হাতে থাকবে স্বাস্থ্য কার্ড-ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড। এই কার্ড থাকলে সরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসালয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিতে সরকার বাধ্য থাকবে। বিশেষ করে-যারা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল-আমাদের গরিব মা-বোন, কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর ভাইয়েরা-যারা উন্নত চিকিৎসা পায় না অথচ জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তারা এই ব্যবস্থার মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসা পাবে।
নির্বাচনী সভায় জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পিএ/টিএ