রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও উপস্থাপক জিল্লুর রহমান বলেছেন, “সম্প্রতি নির্বাচনী প্রচারণায় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান নিজেকে ‘আহত সৈনিক’ হিসেবে দাবি করেছেন।”
জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো আহত বা অসুস্থ কাউকে তো এই রাজনৈতিক লড়াইয়ে সেই অর্থে দেখতে চাই না। আমরা চাই সক্ষম মানুষ যারা আগামী দিনে বাংলাদেশকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে পারবেন নেতৃত্ব দিতে পারবেন।’
সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলের এক ভিডিওতে জিল্লুর এসব কথা বলেন।
জিল্লুর রহমান বলেন, ‘জামায়াতের আক্রমণ ছুটছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির দিকে। ১৯৭১ সালে যারা তাদের প্রতিপক্ষ ছিল-মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতাকামী মানুষ-আজও তারাই লক্ষ্যবস্তু। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই শক্তির নেতৃত্বে রয়েছে বিএনপি এবং তাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধারাবাহিক কুৎসা ও আক্রমণ চালানো হচ্ছে, যার বড় অংশই সংগঠিত বট বাহিনীর মাধ্যমে।
অথচ তারেক রহমানের প্রতি ন্যূনতম সহানুভূতি ও সম্মান দেখানোর কথা ছিল। তিনি দীর্ঘদিন নির্বাসনে ছিলেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, মা ও ভাইকে হারিয়েছেন। কিন্তু গত ১৭-১৮ মাসে জামায়াত বা তাদের মিত্রদের আচরণ ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। বরং বিএনপি শালীনতা ও সংযমের পরিচয় দিয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘জামায়াত দুর্নীতিবিরোধী কথা বললেও অতীতে ক্ষমতায় থেকে সুযোগ-সুবিধা নিজেদের লোকদের মধ্যে বণ্টন করেছে। পাকিস্তান আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা যুদ্ধ, এরশাদবিরোধী আন্দোলন কিংবা বিভিন্ন নির্বাচন-ইতিহাস বলে তারা বারবার ভুল অবস্থান নিয়েছে এবং অংশীদারদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপির আসলে খুঁজে বের করতে হবে বিএনপির ভেতরে জামায়াতের হয়ে কারা কাজ করছে। বিএনপির মতো দলের এই ভুল দেশের জন্য জাতির জন্য অনেক বড় কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কাজেই সবাই মিলে আপাতত বিএনপিকে রক্ষা করা দরকার এবং আগামী দিনে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবার জন্য বহু মত বহু পথের রাজনীতির জন্য পরিবেশটাকে উন্মুক্ত করে দেওয়া দরকার।
বাংলাদেশে কোনোভাবেই উগ্রপন্থা প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। শেষ পর্যন্ত জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তারা কাকে বেছে নেবে।’
এমআই/এসএন