খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাবিতে এই মিছিল ও সমাবেশ হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল পাড়া থেকে মিছিল শুরু হয়ে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান নেয়। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে ভিসি চত্বরে এসে সমাবেশ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এসময় শিক্ষার্থীরা ‘শিক্ষা সন্ত্রাস/একসাথে চলে না’, ‘জুলাই তোমায় ভুলি নাই/ রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘কুয়েটে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, সন্ত্রাসীদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘ছাত্রলীগ যে পথে, ছাত্রদল সে পথে’সহ নানারকম স্লোগান দেন।
সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আজ যারা ছাত্রদলের ব্যানারের পেছনে এসে দাঁড়ায়, গত ১৬ বছর তারা ছাত্রলীগের ব্যানারের পেছনে ছিল। এই বাংলাদেশে যারা ছাত্রলীগ হয়ে উঠতে চাইবে, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে; তাদের পরিণতি ঠিক ছাত্রলীগের মতোই হবে।’
ছাত্রদলের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি ক্যাম্পাসে চাপাতির রাজনীতি, হকস্টিকের রাজনীতি, ছাত্রলীগের রাজনীতি ইনস্টল করবেন তাহলে ছাত্রলীগ গেছে যে পথে আপনাদেরও সেপথে যেতে হবে।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসিবুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রদল বাইরে থেকে সন্ত্রাসী ভাড়া করে নিয়ে এসে কুয়েটে হামলা করেছে। অনতিবিলম্বে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
সমন্বয়ক রিফাত রশিদ বলেন, ‘যে ওয়াসিম ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে যেয়ে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল, সেই রক্তের ওপর দিয়ে আজ শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ঢুকানো হয়েছে। বিগত দিনে যারা বাংলাদেশের ছাত্র সমাজকে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিল তারা আজ জেলে পঁচে মরছে। তাই এখনই সচেতন হয়ে শিক্ষার্থীদের ম্যন্ডেট নিয়ে কাজ করুন।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার বলেন, ‘জুলাইয়ে যারা আক্রমণ করে মধুতে বিক্ষোভ মিছিল করেছিল, তাদের মতোই আজ একদল নাটক করতে এসেছে। শহিদ সাইদ, মুগ্ধ, ওয়াসিমসহ প্রায় দুই হাজার শহিদ এ কারণে মাঠে নামেনি যে, আজ ছাত্রদল আক্রমণ করবে।’
আব্দুল কাদের ছাত্রদলের উদ্দেশে বলেন, ‘শহিদেরা যে স্বপ্ন নিয়ে রক্ত দিয়েছিল সে স্বপ্ন আপনারা মুছে দিতে চান। ছাত্রদল যদি ছাত্রলীগের পথ অনুসরণ করতে চায়, ছাত্রদল যদি আমাদের ভাইদের গায়ে হাত তোলে তাহলে ছাত্রলীগের মতো তাদেরও আমরা ঝেটিয়ে বিদায় করব।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব আরিফ সোহেল বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা এখনো বহাল আছে। বিভিন্ন ট্যাগিং ব্যবহার করে ছাত্রদের ওপর হামলা জায়েজ করা এখনো বহাল আছে। যারা বাংলাদেশে স্ট্যাম্পের রাজনীতি করতে চায়, রামদার রাজনীতি করতে চায়, তাদের আমরা বাংলাদেশ থেকে তাড়িয়ে ছাড়ব।’
এই সময়ে কুয়েটে হামলার প্রতিবাদে ঢাবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাবেশকথা বলছেন ছাত্রদলের ঢাবি শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায়।ছাত্রদলের নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ছাত্রদল।রাত সাড়ে ৮টায় দলটি ঢাবি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ডাচ চত্বরে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।
সমাবেশে ছাত্রদলের ঢাবি শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় বলেন, কুয়েটে দুই দিন আগে একটি টিম অত্যন্ত সুশৃংঙ্খলভাবে ফর্ম বিতরণ করেছে। যা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। আজকে একটি গুপ্ত সংগঠন ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি চাই না বলে মিছিল আয়োজন করেছিল। যারা সেখানে ছাত্রদলের ফর্ম পূরণ করেছে, তাদের হামলা করেছে। তারা একটি মব তৈরি করে শিক্ষার্থীদের বোঝাতে চাচ্ছে, ছাত্রদল ছাত্রলীগের মতো আধিপত্য করবে।
‘যারা ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি চাই না বলে মিছিল করেছিল, তারা এখন ক্যাম্পাসগুলোতে নামে বেনামে সংগঠন খুলে বসে আছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কোনো গেস্টরুম গণরুমের সংস্কৃতি ধারণ করে না। ’
তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি মব তৈরি করা হয়েছিল যে, ছাত্রদল ডাকসু চায় না। কিন্তু ডাকসু আমাদের প্রাণের দাবি। আমরা ইতোমধ্যে ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংস্কারের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে প্রস্তাবনা দিয়েছি। আমরা প্রকাশ্যে মতামত বিনিময় করছি শিক্ষার্থীদের সাথে।
তিনি আরও বলেন, ঢাবি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। ৫ আগস্টের পর হয়তো কিছুদিন মব তৈরি করে তাদের আবেগকে নিয়ে খেলাধুলা করা গেছে, কিন্তু শিক্ষার্থীরা বুঝে গেছে, মব তৈরি করে কোনো ধরনের গুপ্তভিত্তিক চর্চা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আর হবে না। গত ১৫ বছরে আমরা যত বেশি গুম-খুনের শিকার হয়েছি, তত বেশি কোনো একক সংগঠন শিকার হয়নি। আমরা ৫ আগস্টের পর কোনো ক্রেডিট নেইনি। ছাত্রদল ক্রেডিট নেওয়ার রাজনীতি করে না। ছাত্রদলের ইতিবাচক রাজনীতিকে কোনো আলবদর বাহিনী, বট বাহিনী, গুজব বাহিনী প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারবে না।
এর আগে আজ দুপুরে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ছাত্রদলের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে ছাত্রদলের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মী এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা যোগ দেয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন।