একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামায়াতের দুই নেতা দাবি করেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারকে হত্যার পেছনে ছিল জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে ভারত একটি বিশেষ মিশনে নেমেছে।
বুধবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত আলোচনা সভায় দলটির দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা এসব মন্তব্য করেন।
দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান কখনও চায়নি পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ হোক। তিনি দেশপ্রেমে নয় ক্ষমতার মসনদে বসার লড়াই করেছে। তিনি চেয়েছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে। ৭ মার্চ যদি শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েই থাকেন, তাহলে ৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ শেখ মুজিব পাকিস্তানি শাসকদের সঙ্গে আলোচনায় বসলেন কেন। এ প্রশ্নের জবাব আজও আওয়ামী লীগ জাতির সামনে দিতে পারেনি।’
জামায়াত নেতা আরও বলেন, ‘ভারত আমাদের এই দেশকে নিয়ে স্বাধীনতার পর থেকেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এরই অংশ হিসেবে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার মিশনে নেমেছে ভারত। যার কারণে তারা আমাদের দেশ নিয়ে তাদের মিডিয়াতে নানা রকম গুজব ছড়াচ্ছে এবং প্রচার ও প্রকাশ করছে।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতিকে বিভিন্নভাবে বিভক্ত করা হয়েছে। ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকালীন ঘটনা মীমাংসিত। ’
সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ছিল বাকশাল কায়েমের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। কারণ বাকশাল কায়েমের মধ্য দিয়ে এদেশের স্বাধীনতা লুন্ঠিত হয়েছে।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারী যথাক্রমে মো. দেলাওয়ার হোসেন, মোহাম্মদ কামাল হোসেন এবং অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারী মো. শামছুর রহমান, কর্মপরিষদের সদস্য যথাক্রমে মাওলানা ফরিদুল ইসলাম, এডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, মাওলানা মোশাররফ হোসেন, কামরুল আহসান হাসান, শাহীন আহমেদ খান, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সহকারী সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমনসহ মহানগরীর নেতারা।
এসএস/এসএন