কয়েক দশকের সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারে পাঁচ দিনে ৩২টি বিমান হামলা চালিয়েছে জান্তা বাহিনী। এসব হামলায় ১১টি স্থানে কমপক্ষে ৫০ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। দেশটির জাতীয় ঐক্য পরামর্শ পরিষদ এ তথ্য জানিয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইরাবতির প্রতিবেদন অনুসারে, পরিষদ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর প্রথম পাঁচ দিনে শাসকগোষ্ঠী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত সাগাইং এবং মান্দালয় অঞ্চলসহ ১১টি স্থানে ৩২টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এর ফলে কমপক্ষে ৫০ জন বেসামরিক লোক নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছে।
ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত দেশটিতে জান্তা সরকার ও প্রতিরোধ যোদ্ধারা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে। ইরাবতির প্রতিবেদন অনুসারে, ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার জন্য জান্তা সরকার ২০ দিনের জন্য তথাকথিত যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টা পরই সাগাইং অঞ্চলের ইয়িনমারবিন জেলার কানি টাউনশিপে দুটি জান্তা ছয়টি বোমা হামলা চালায়।
প্রতিরোধ যোদ্ধাদের জাতীয় ঐক্য সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মান্দালয় অঞ্চলের তাউং থা গ্রামে প্যারামোটর বিমান হামলা চালিয়েছে এবং সাগাইংয়ের হোমালিনেও জান্তা বিমান হামলা চালিয়েছে। একই দিনে মান্দালয়ের নাউং-ইউ টাউনশিপেও অভিযান শুরু করে শাসক বাহিনী।
মন্ত্রণালয়টি এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং জান্তার যুদ্ধবিরতি ঘোষণাকে 'নিছক প্রতারণা' হিসেবে উল্লেখ করেছে।
জাতিসংঘও শুক্রবার (৪ এপ্রিল) জানিয়েছে, ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানার পর থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কয়েক ডজন আক্রমণ চালিয়েছে এবং অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর (বৃহস্পতিবার) থেকে কমপক্ষে ১৪টি আক্রমণ চালানো হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি সাংবাদিকদের বলেন, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিমান ও ড্রোন, কামান এবং প্যারামোটর দিয়ে হামলাসহ সামরিক বাহিনী কমপক্ষে ৫৩টি হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদন পাওয়া গেছে।
এফপি/এস এন