ভারতে প্রতিটি পরিবারে অন্তত তিনটি করে সন্তান থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের জাতীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত।
ভারত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ। জনসংখ্যা প্রায় ১৪৬ কোটি। দেশটির জন্মহার এখন দ্রুত নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের মোট প্রজনন হার এখন দুইয়ের নিচে নেমে গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষে দেয়া ভাষণে মোহন ভাগবত বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থে, প্রতিটি পরিবারের তিনটি সন্তান থাকা উচিত এবং নিজেদেরকে এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।’
ভাষণে মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরোধিতার অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষ ও সংস্কৃতি এক। ধর্মীয় রীতি-নীতিতে ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু পরিচয় একই। ধর্ম পরিবর্তন করলেই সমাজ পাল্টে যায় না। তিনি মুসলমানদের উদ্দেশে আরও বলেন, একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে ইসলাম বিলীন হয়ে যাবে, এই ভয় কাটিয়ে উঠতে হবে।
ভাগবতের এই বক্তব্য জনসংখ্যাগত ভারসাম্য, রাষ্ট্রের সক্ষমতা ও সংস্কৃতিগত পরিচয় নিয়ে উত্থাপিত উদ্বেগের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে বলা হয়ে আসছে- ভারতে মুসলিমদের জন্মহার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় ভবিষ্যতে জনসংখ্যার গঠনে পরিবর্তন আসতে পারে। যদিও সরকারি তথ্য বলছে, মুসলিম পরিবারগুলোতেও সন্তান জন্মদানের হার ক্রমশ কমছে।
আরএসএস প্রধান নিজেও স্বীকার করেছেন, হিন্দু হোক বা মুসলিম; সব সম্প্রদায়ের মধ্যেই জন্মহার কমছে। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, দেশের শক্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি ‘যথেষ্ট জনসংখ্যা’ প্রয়োজন।
আরএসএস আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে পরিচয় দিলেও, বাস্তবে সংগঠনটির প্রভাব ভারতীয় রাজনীতির প্রতিটি স্তরে গভীরভাবে বিস্তৃত। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যই এই সংগঠনের আজীবন সদস্য।
ইএ/টিকে