বরগুনার আমতলীতে আবু বকর সিদ্দিক (জসিম) নামে এক কৃষকদল নেতা পদত্যাগ করে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে আমতলী উপজেলার বকুলনেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজ সড়কে উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে সদস্য ফরম পূরণের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।
জসিম বরগুনা জেলা কৃষকদলের সহ-সভাপতি ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ছিলেন। যোগদানকালে জামায়াতের নেতারা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এসময় আমতলী উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন, বরগুনা জেলা শাখার প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মো. আবদুল মালেক, উপজেলা সেক্রেটারি মো. মোফাজ্জল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, আমতলী উপজেলার হাসপাতাল সড়কের আবু বকর সিদ্দিক (জসিম) ফকির গত ১০ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক, বরগুনা জেলা কৃষকদলের সহ-সভাপতি ও উপজেলা কৃষকদল আহ্বায়কের দায়িত্বপালন করেছেন। গত ১৬ বছরে তিনি ৮টি মামলার আসামি হয়েছেন।
এক ফেসবুক পোস্টে আবু বকর সিদ্দিক (জসিম) বলেন, ‘আমার প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতে ও কাজ করতে গিয়ে আমি সর্বদাই বাধা গ্রস্ত ও লাঞ্ছিত হয়েছি। কোথাও বলে এর কোনো সুফল মেলেনি বিধায় জিয়া পরিবারের প্রতি সম্মান ও ভালবাসা রেখে আমি জেলা কৃষকদলের সহ-সভাপতি ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়কের পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছি। দেশের সব মানুষের কাছে আমি আন্তরিকভাবে দোয়া চাচ্ছি।’
এ বিষয়ে আবু বকর সিদ্দিক বলেন, গত ২০ বছর ধরে যুবদল ও কৃষকদলের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলাম। কিন্তু এ দলের মধ্যে নিয়মশৃঙ্খলা নেই। দলের সিনিয়র দানবীয় শক্তির কাছে উপজেলা বিএনপির ত্যাগী নেতারা জিম্মি। সত্য ও সততার ভিত্তিতে রাজনীতির জায়গা বিএনপিতে নেই। তাই আমি যুবদল, কৃষকদলসহ বিএনপির সকল পদ থেকে অব্যহতি নিয়েছি। আর জামায়াতে ইসলামী দলের আদর্শ ও কর্মকাণ্ড আমাকে আকৃষ্ট করেছে। তাই আমি জামায়াতে ইসলামীর সদস্য ফরম পূরণ করে যোগদান করেছি।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমতলী উপজেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি শান্তিপ্রিয় ইসলামী রাজনৈতিক দল। যে কেউ আমাদের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দলে যোগ দিতে পারেন। আজ যুবদল নেতা আবুবকর সিদ্দিক আমাদের দলে যোগ দিয়েছেন। আমরা তাকে সাদরে গ্রহণ করেছি।
এসএস/টিকে