প্রবীণ অভিনেত্রী জিনাত আমানের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডল যেন তার অনুরাগীদের জন্য এক জীবন্ত জাদুঘর, যেখানে প্রতিটি পোস্ট অতীতের এক টুকরা রত্ন হয়ে ঝলমল করে। পুরনো দিনের অজানা তথ্য, শুটিংয়ের অদেখা মুহূর্ত, এবং ব্যক্তিগত স্মৃতির আবেশে ভরা তার ইনস্টাগ্রাম ফিড যেন প্রতিদিনই উপহার দেয় এক নতুন গল্প।
এক পোস্টে জিনাত ফিরে গিয়েছিলেন আইকনিক গান ‘সমুন্দর মে নাহা কে...’-এর শুটিংয়ের স্মৃতিতে, যেখানে রোমান্স, রোদ্দুর আর সমুদ্রের ঢেউ মিলেমিশে তৈরি করেছিল এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
এই গানটির শুটিং ছিল অমিতাভ বচ্চনের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত, কারণ এটি ছিল ১৯৮২ সালে ‘কুলি’ ছবির সেটে ঘটে যাওয়া প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার পর তার প্রথম শুটিং।
সেই প্রসঙ্গ তুলে জিনাত লিখেছেন, ‘আমরা দুজনেই সেই গানের নোনতা কথায় রোমান্সে ডুবে গিয়েছিলাম। আর আবহাওয়া ছিল একেবারে ঝলমলে! সত্যি বলতে, এই পোস্টটা গ্রীষ্মের এই গরমের মাঝে একটু অতিরিক্ত আবেগে লেখা।’
আটের দশকে, যখন গোয়া ছিল নিঃশব্দ, নির্জন আর স্বপ্নময়, তখন পরিচালক রমেশ বেহলের ‘পুকার’ ছবির শুটিং ছিল এক আনন্দময় অধ্যায়।
জিনাত বলেন, ‘এই ছবির ঔপনিবেশিক বিরোধী ভাবনা, দুর্দান্ত কাস্ট এবং হৃদয়গ্রাহী গান আমাকে চিত্রনাট্যের প্রতি আকৃষ্ট করেছিল। সমুন্দর মে নাহা কে... গানটি শুট করা হয়েছিল এক ফাঁকা সৈকতে। সব কিছুই ছিল সহজ, স্বতঃস্ফূর্ত, যেন প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম।’
অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘আমার জন্য তো আরো সহজ ছিল বিষয়টা! কোনো লিপ-সিংক নয়, কঠিন কোরিওগ্রাফিও নয়। নির্দেশ ছিল একটাই, সুন্দর দেখতে লাগতে হবে! আমি ছিলাম এক সাদা, উন্মুক্ত পোশাকে, সামান্য পেট দেখা যাচ্ছিল, আর আমি গড়াগড়ি খাচ্ছিলাম ঢেউয়ের মাঝে। মিস্টার বচ্চন আমার চারপাশে ঘুরছিলেন যেন এক প্রেমের পাখি।’
তবে জিনাতের এই নিখুঁত পারফরম্যান্সের আড়ালে ছিল এক ছোট্ট চ্যালেঞ্জ, তিনি সাঁতার জানতেন না! অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার অভিনয় ছিল প্রায় নিখুঁত, কিন্তু আমি সাঁতার জানতাম না! সেই দৃশ্যগুলোতে আমাকে অনেকটা সাহসী হতে হয়েছিল। ঢেউয়ের মধ্যে কয়েকবার আছাড় খেয়ে, বালিতে অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েও, আমি মনে মনে, জলপরি হয়ে উঠেছিলাম।’
তিনি আরও জানান, এই গানটির শুটিং ছিল মিস্টার বচ্চনের প্রথম কাজ ‘কুলি’ ছবির দুর্ঘটনার পর। তখন গোটা ভারত যেন নিঃশ্বাস আটকে রেখেছিল তার সুস্থতার অপেক্ষায়।
কেএন/টিকে