• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬

যেভাবে বিখ্যাত বিজ্ঞানী হয়েছিলেন আইনস্টাইন

যেভাবে বিখ্যাত বিজ্ঞানী হয়েছিলেন আইনস্টাইন

ফিচার ডেস্ক১১ নভেম্বর ২০১৮, ০৪:৪৫পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।

বিশ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রভাবশালী বিজ্ঞানীদের একজন আলবার্ট আইনস্টাইন। তার আপেক্ষিকতাবাদ তত্ত্ব পদার্থ বিজ্ঞানে এক নতুন দ্বার উন্মোচন করেছিল। তার দেয়া ভর ও শক্তির সূত্র (E = mc2) বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত সূত্রদের একটি।

তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞান এবং কোয়ান্টাম তত্ত্বের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ১৯২১ সালে তিনি পদার্থে নোবেল পুরস্কার পান।

মানবিক এবং বৈশ্বিক বিষয়ে মুক্ত চিন্তা ও স্পষ্ট বক্তব্যের জন্য তিনি বেশ পরিচিত ছিলেন।

১৮৭৯ সালের ১৪ মার্চ জার্মানির একটি ইহুদি শ্রমজীবী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আইনস্টাইন। ১৫ বছর বয়সে তিনি পরিবারের সাথে ইতালির মিলানে চলে যান।

বাবার ইচ্ছে ছিল আইনস্টাইন একজন ইঞ্জিনিয়ার হবেন। শৈশবে পড়ালেখায় প্রচণ্ড আগ্রহ ছিল। তবে পরীক্ষায় তার ফলাফল উল্লেখ করার মতো ছিল না। শিক্ষকদের মতে, শিখার ক্ষেত্রে আইনস্টাইন খুব ধীর প্রকৃতির ছিলেন। তাই তার শিক্ষকরা তার প্রতি অনেক সময় বিরক্ত হতেন।

আইনস্টাইন বলেন, ‘স্কুল আমার কাছে ব্যর্থ, আর আমি স্কুলের কাছে ব্যর্থ। কারণ যে বিষয়ে আমার আগ্রহ থাকে আমি তা শিখতে চাইতাম, অথচ আমার শিক্ষকরা পরীক্ষায় পাস করার জন্য যা দরকার কেবল তাই শিখাতেন’।

লেখাপড়ার ব্যাপারে আইনস্টাইন অত্যন্ত স্বাধীন ছিলেন। শিক্ষকদের ধারণা তার এই উদাসীনতা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে গিয়েছিল। এই কারণে একবার তাকে স্কুল ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা বলেছিল কর্তৃপক্ষ।

যখন হিটলার জার্মানির ক্ষমতায় চলে আসলেন তখন তিনি পরিবারের সাথে সুইজারল্যান্ড চলে যান। সেখানে জুরিখের ফেডারেল ইনস্টিটিউট অব টেকনলোজির ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণিবিদ্যা এবং ভাষাশিক্ষা বিষয়ে তিনি অকৃতকার্য হলে সেবার ভর্তি হতে পারেননি।

পরের বছর ১৯০০ সালে তিনি আবার ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হন এবং ১৯০১ সালে সুইজারল্যান্ডের নাগরিকত্ব লাভ করেন।

১৮৯৬ সালে বাধ্যতামূলকভাবে জার্মান সেনাবাহিনীতে যোগদান এড়াতে তিনি জার্মান নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। সুইজারল্যান্ডের নাগরিক হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ বছর তিনি রাষ্ট্রবিহীন ছিলেন।

জুরিখ কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর করার পর তিনি শিক্ষকতা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কেউ সেদিন তাকে শিক্ষতার চাকরি দেয়নি। অবশেষে তিনি সুইস পেটেন্ট অফিসে চাকরি পান।

এখানে থাকা অবস্থায় তিনি তার বৈজ্ঞানিক গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যান।

১৯০৫ সালে তিনি ‘অ্যা নিউ ডিটারমিনেশন অফ মলিকুলার ডাইমেনশন’ এর উপর পিএইচডি করেন। একই বছর তিনি চারটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন যা পদার্থ বিজ্ঞানে নতুন বিপ্লব নিয়ে আসে।

তার গবেষণাকাজ এতই প্রশংসিত হয় যে ১৯০৯ সালে তিনি জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সুযোগ পান। এমন কি ১৯১১ সালে প্রেগের চার্লস ফার্দিনান্দ বিশ্ববিদ্যালয় আইনস্টাইনকে একজন পূর্ণ অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেয় প্রেগের চার্লস ফার্দিনান্দ বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯১৪ সালে তিনি আবার জার্মানিতে ফিরে আসেন এবং কাইজার উইলহ্যাম ইনস্টিটিউট ফর ফিজিক্স এর পরিচালক নিযুক্ত হন।

আইনস্টাইন প্রমাণ করেন যে, আলো কেবল তরঙ্গ আকারেই নয় বৈদ্যুতিক তরঙ্গ হিসেবেও গমন করে। তিনি আলোর কণার নাম দেন কোয়ান্টাম। তার এই তত্ত্বের উপর ভিত্তি করেই বিজ্ঞানীরা টেলিভিশন এবং মুভি আবিষ্কার করতে সমর্থ।

আলোর এই কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যাখ্যা করার জনা আইনস্টাইনকে ১৯২১ সালে পদার্থে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়।

জার্মান ইহুদি হিসাবে হিটলারের নাৎসি পার্টির হুমকির মুখে পড়েন আইনস্টাইন। ১৯৩৩ সালে নাৎসি পার্টির সদস্যরা তার সম্পত্তি জব্দ করে এবং তার বইপত্র পুড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে আইনস্টাইন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।

তবে আইনস্টাইন নিজেকে জাতি, ধর্মের উর্ধ্বে একজন বিশ্ব নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিতেন। কোনো বিশেষ ধর্ম অনুসরণ না করলেও তিনি ঈশ্বরকে বিশ্বাস করতেন। তিনি বলেছেন, ‘ধর্ম ছাড়া বিজ্ঞান পঙ্গু, বিজ্ঞান ছাড়া ধর্ম অন্ধ’।

আইনস্টাইন নিজেকে একজন সমাজতান্ত্রিক বলে বর্ণনা করেছেন। সমাজতন্ত্রের সমর্থনে তিনি ‘হোয়াই সোসালিজম?’ শীর্ষক গ্রন্থ লিখেছেন।

তিনি ইসরাইলের রাষ্ট্রকে সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু ইসরাইল রাষ্ট্রের সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

১৯৫২ সালে তাকে ইসরাইলের রাষ্ট্রপতি পদের সম্মান দিলেও তিনি তা অস্বীকার করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালে বর্ণবাদবিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন তিনি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি পরমাণু বোমার উন্নয়নে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্টের ম্যানহাটন প্রজেক্টে ভূমিকা রাখেন।

তবে যুদ্ধ শেষ হলে তিনি পরমাণু অস্ত্র উন্নয়নের চরম বিরোধিতা করেছিলেন।

বিজ্ঞানী হলেও আইনস্টাইন খুব ভাল গান করতেন। তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞানী না হলে আমি একজন গায়ক হতাম’। ১৯৫৫ সালে এই মহান বিজ্ঞানী মারা যান।

ভারতের চাপানো শর্তে পার্বতীপুর-কাউনিয়া ডুয়ালগেজ লাইনে অচলাবস্থা

ভারতের চাপানো শর্তে পার্বতীপুর-কাউনিয়া ডুয়ালগেজ লাইনে অচলাবস্থা

‘আমি এই প্রকল্পে নতুন। এখনও আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। সাবেক

ঘন কুয়াশায় চালক সিগন্যাল দেখতে পাননি: রেলওয়ে মহাপরিচালক

ঘন কুয়াশায় চালক সিগন্যাল দেখতে পাননি: রেলওয়ে মহাপরিচালক

কসবার ট্রেন দুর্ঘটনা বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান জানিয়েছেন, তূর্ণা

ভারতে পেঁয়াজের দাম নেই,কৃষকের কান্নার ভিডিও ভাইরাল

ভারতে পেঁয়াজের দাম নেই,কৃষকের কান্নার ভিডিও ভাইরাল

ভিডিওতে দেখা যায়, আহমেদনগরের ওই কৃষক কেঁদে কেঁদে বলছেন, ‘আট

জাতীয়

ট্রেন দুর্ঘটনা: মহিমার কেউ নেই, চাচা-ফুফু দাবি করেছেন দু’জন

ট্রেন দুর্ঘটনা: মহিমার কেউ নেই, চাচা-ফুফু দাবি করেছেন দু’জন

জানা গেছে, আড়াই বছর বয়সী ওই শিশুটিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তির সময় কর্তৃপক্ষ তার নাম দিয়েছে মহিমা আক্তার। একটু সুস্থ হওয়ার পর থেকে হাসপাতালের বেডে বসে অবাক-ভয়ার্ত চোখে খুঁজে ফিরছেন স্বজনদের। কিন্তু কে মা কে তার বাবা সে সন্ধান কেউ জানেনা। হাসপাতালের নার্সরাই এখন তার দেখভাল করছেন।

আইন আদালত

এসপি হারুনের দুর্নীতির বিষয়ে হাইকোর্টে রিট

এসপি হারুনের দুর্নীতির বিষয়ে হাইকোর্টে রিট

রিটে এ পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত এসপি হারুনের ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে এ রিট দায়ের করা হয়।

রাজনীতি

‘নূর হোসেন ইয়াবাখোর’: মায়ের কাছে নি:শর্ত ক্ষমা চাইলেন রাঙ্গা

‘নূর হোসেন ইয়াবাখোর’: মায়ের কাছে নি:শর্ত ক্ষমা চাইলেন রাঙ্গা

বিজ্ঞপ্তিতে জাপা মহাসচিব রাঙ্গা বলেন, ‘গত ১০ নভেম্বর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানীস্থ কার্যালয়ের মিলনায়তনে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ঘরোয়াভাবে আয়োজিত “গণতন্ত্র দিবস”-এর আলোচনা সভায় আমার কিছু বক্তব্য নিয়ে কোনো কোনো মহল এবং বিশেষ করে নূর হোসেনের পরিবারের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

জাতীয়

ট্রেন দুর্ঘটনা:  ছোট্ট ছোঁয়ামনি মর্গে,বাঁচার আশায় বাবা-মাকে আনা হলো ঢাকায়

ট্রেন দুর্ঘটনা: ছোট্ট ছোঁয়ামনি মর্গে,বাঁচার আশায় বাবা-মাকে আনা হলো ঢাকায়

শিশু ছোঁয়া মনির বাবার নাম সোহেল মিয়া, মা নাজমা বেগম। গতকাল সোমবার ভোর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মন্দবাগে মর্মান্তির ট্রেন দুর্ঘটনায় তারা তিন জনই গুরুতর আহত হন। অনেকের সঙ্গে তাদেরকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ছোট্ট ছোঁয়া মনি হাসপাতালে যাওয়ার পর মারা যায়, আর গুরুতর আহত তার বাবা-মাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

জাতীয়

সৌদিতে নারীদের না পাঠাতে রাজধানীতে বিক্ষোভ

সৌদিতে নারীদের না পাঠাতে রাজধানীতে বিক্ষোভ

প্রবাসে নির্যাতিত নারীরা বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছে সাহায্য চাইলেও দূতাবাসের কর্মকর্তারা কোনো সাহায্য করে না জানিয়ে তারা আরও বলেন, ‘বরং যাদের পাঠানো টাকা দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করছে তাদের নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কথা বলা হচ্ছে।’ এ বিষয়ে তারা দ্রুত সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ও আর কোনো নারীকে সৌদি আরবে না পাঠানোর দাবি জানান।

বিনোদন

ঢাকা লিট ফেস্টে নাচানাচি; পক্ষে-বিপক্ষে মত

ঢাকা লিট ফেস্টে নাচানাচি; পক্ষে-বিপক্ষে মত

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ঢাকা লিট ফেস্টের নবম আসরে একটি নাচের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে চতুর্দিকে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের ‘বন্ধু তুই লোকাল বাস’ গানের সঙ্গে নাচছেন কয়েকজন।