১৫ বছরের ক্লাব ফুটবলে কবে এতটা খারাপ সময় কাটিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে ভুলে যাওয়ার কথা মোহাম্মদ সালাহর। ২০২৪–২৫ মৌসুমেও দুর্দান্ত দাপটে ছিলেন মিশরীয় রাইট উইঙ্গার। প্রিমিয়ার লিগে ছিলেন সর্বোচ্চ গোল স্কোরার। জিতেছেন গোল্ডেন বুট।
নতুন মৌসুমে পা রাখতেই একদম মিইয়ে গেছেন সালাহ। পা তার চলছেই না, পাচ্ছেন না গোল। গত বছরের রাজা এবার স্রেফ প্রজা। মাঝে মধ্যে বেঞ্চেও বসতে হচ্ছে তাঁকে। নামছেন বদলি হিসেবে। ক্লাবের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৮ ম্যাচে পেয়েছেন ৫ গোল।
সালাহ’র বাজে পারফরম্যান্স নিয়ে কোচ আর্নে স্লটের যুক্তি—সময় বাড়লে হয়তো সবকিছুই ঠিকঠাক হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেছিলেন, নতুন রিক্রুট হুগো একিতিকে ও ফ্লোরিয়ান ব্রির্টজ ও মোহাম্মদ ইসাকদের সঙ্গে সামঞ্জস্য হতে পারছেন না সালাহ। ক্রমান্বয়ে সবকিছুর সুন্দর ফল মিলবে।
ইতোমধ্যে প্রিমিয়ার লিগে ১২টি ম্যাচ খেলেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা, যেখানে ৬ জয়ের বিপরীতে ৬ হার। এর জন্য অভিজ্ঞ, বিশেষ করে মোহাম্মদ সালাহ, ভির্জিল ভ্যান ডাইক ও ইসাকদের গোল খরাকে দায়ী করেছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
এবার সালাহকে কাঠগড়ায় তুলেছেন অল রেডস শিবিরে সাবেক ডিফেন্ডার জেমি কারাঘার। বর্তমানে ফুটবল বিশ্লেষক ও টেলিভিশন কমেন্টেটর হিসেবে কাজ করা এই ইংলিশ ডিফেন্ডার বলেন, ‘‘সালাহর পা সম্পূর্ণরূপে গেছে। এগুলো আর কার্যকরি নয়।’’
সবশেষে পিএসভি আইন্দহোভেনের কাছে ৪–১ গোলে হেরেছে লিভারপুল। এরপরই নিজের অভিমত প্রকাশ করেন জেমি। তিনি বলেন,
“লিভারপুল অন্য ইউরোপীয়ান ক্লাবগুলো থেকে ভিন্ন—এখানে ম্যানেজারই রাজা, ম্যানেজারকে সময় দেওয়া হয়।”
তিনি বলেন, “আমি সবসময় সেই দলে থাকি যারা ম্যানেজারের পাশে থাকে। সত্য বলতে গেলে, আমি খেলোয়াড়দের নিয়েই রেগে আছি।”
জেমি বলেন, “অ্যালিসন বেকার প্রায়ই চোটে ভোগেন, খুব বেশি খেলেন না তিনি। কিন্তু আপনি ভার্জিল ভ্যান ডাইককে দেখুন, তিনি আগের সেই খেলোয়াড় আর নেই। মো. সালাহ যেন তার পায়ের শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমি তাঁদের (সালাহ, অ্যালিসন) অপমান করছি না। বরং আমি মনে করি এ মৌসুমে খেলোয়াড় হিসেবে তাদের কিছু সমালোচনা বেশ কঠোর হয়েছে। তাঁরা প্রত্যেকেই লেজেন্ড। তাদের অপমান করাটা সত্যিই পছন্দ করি না। তবে এটা ঠিক যে, এখন তাদের পায়ের শক্তি কমে গেছে।”
আইকে/টিএ