নানা নাটকীয়তায় আরেকটি আসর শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল)। যেখানে দীর্ঘ সময় পর ফিরছে নিলাম, কয়েক দফা পিছিয়ে সেই অনুষ্ঠান মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে আগামী ৩০ নভেম্বর। এরই মাঝে দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটারদের সংক্ষিপ্ত তালিকাও প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু সেখানে বয়স্ক, বিতর্কিত এবং ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায় থাকা ক্রিকেটারদের নাম আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
কয়েক মাস আগে পেশাদার ক্রিকেটকে বিদায় বলেছিলেন সাবেক ভারতীয় স্পিনার পিযূশ চাওলা। ৩৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার নতুন করে বিপিএল খেলার আগ্রহ দেখিয়েছেন। সংক্ষিপ্ত তালিকায়ও রাখা হয়েছে চাওলার নাম। বর্তমান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রায় বাতিলের খাতায় চলে যাওয়া সামিত প্যাটেল, রবি বোপারাও বিপিএলের দ্বাদশ আসরে নিলামের জন্য অপেক্ষায় আছেন। বিগত আসরের মতো তাদের টুর্নামেন্টটিতে খেলতে দেখা গেলেও হয়তো অবাক হওয়ার থাকবে না!
বোপারা-সামিত দুজনেরই বয়স ৪১, তারা দীর্ঘ সময় ধরেই বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের ফেরিওয়ালায় পরিণত হয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রথম সারির বড় কোনো টুর্নামেন্টে দেখা যায়নি তাদের। সেক্ষেত্রে ব্যতিক্রম বিপিএল। একইভাবে সাবেক ক্রিকেটারদের টুর্নামেন্ট লিজেন্ডস লিগে খেলা শোয়েব মালিকের মতো ক্রিকেটাররাও এবারের নিলামে আছেন। ৪৪ বছর বয়সী সাবেক এই পাকিস্তানি অলরাউন্ডারের বিপিএল খেলার অতীত অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু এবারও সংক্ষিপ্ত তালিকায় চমক সৃষ্টি করেছে তার নামটি।
দীনেশ চান্দিমাল, সামিউল্লাহ শিনওয়ারি, নাজিবুল্লাহ জাদরান, চাদউইক ওয়ালটনের মতো ক্রিকেটাররাও টি-টোয়েন্টির এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে খেলতে আগ্রহী। তাদেরও বিদেশি ক্রিকেটারের সংক্ষিপ্ত তালিকায়ও দেখে প্রশ্ন জেগেছে। এ ছাড়া মাদকাসক্তি থেকে মুক্তির লক্ষ্যে মাস কয়েক আগে নিজ থেকেই জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ডের চুক্তি ও ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক সূচি থেকে নাম সরিয়ে নেন তারকা অলরাউন্ডার শন উইলিয়ামস। অথচ তাকেও রাখা হয়েছে বিপিএলের নিলামে।
বাংলাদেশের জনপ্রিয় এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিলামের জন্য অপেক্ষমান ২৪৫ বিদেশি ক্রিকেটারের মধ্যে ৪ জন্য চল্লিশোর্ধ এবং ন্যূনতম ২১ জন পঁয়ত্রিশোর্ধ বয়সী। এদের মধ্যে কয়েকজন হয়তো পারফরম্যান্সের বিচারে কোনোরকম উৎরে যাবেন, কিন্তু বেশিরভাগই নিলামের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়ে চমক দেখিয়েছেন। এ তো গেল বয়সের হিসাব, এর বাইরেও টি-টোয়েন্টি সুলভ পারফরম্যান্স না থাকা সত্ত্বেও ক্রিকেটারদের বড় একটি অংশ নিলামের বিবেচনায় কীভাবে এলেন তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
এদিকে, বিপিএলের গত আসরে বেশ কিছু ম্যাচে স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি তা নিয়ে দীর্ঘ তদন্তের পর প্রস্তুত করা হয়েছিল প্রতিবেদনও। কিন্তু সেটি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিতর্কিত ও ফিক্সিংয়ে জড়িত ক্রিকেটার-কর্মকর্তারা আসন্ন বিপিএলেও থাকতে পারেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সেরকম কিছু হলে স্বাধীন তদন্ত কমিটির দেওয়া ৯০০ পাতার প্রতিবেদনের পেছনে শ্রম-ঘাম-সময় বৃথা যাওয়ার পাশাপাশি, বিতর্কমুক্ত বিপিএল হওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে কারও কারও!
আইকে/টিএ