পরীক্ষা না নিলে শিক্ষকরা শাস্তির মুখে পড়বেন: শিক্ষা উপদেষ্টা

দেশের বিভিন্ন স্থানে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বন্ধ করে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা সরকারি কর্মচারী বিধি লঙ্ঘনের শামিল বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্তের কারণে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. সি আর আবরার বলেন, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আন্দোলনের নামে যা করছেন, তা সরকারি আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল। সরকারি আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য আপনাদের কিন্তু তৈরি থাকতে হবে। এখানে সরকার একেবারে দৃঢ়ভাবে তার অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে। আমরা অবশ্যই মনে করি যে, বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যে অবস্থান নিয়েছেন, যেমন- অনেক স্কুলে পরীক্ষা হয়েছে; আবার অনেক স্কুলে হয়নি, এটা একেবারেই অনভিপ্রেত একটি ঘটনা।

তিনি বলেন, এটা অন্যায়, অন্যায্য যে, তারা নবম গ্রেডে আসতে চাচ্ছেন। কারণ চাকরি যখন নিয়েছিলেন তারা জানতেন তারা দশম গ্রেডে থাকবেন। সেখান থেকে নবম গ্রেডের এই দাবি, এটা তাদের চাকরির শর্তের মধ্যে মোটেই ছিল না। সুতরাং, এই এটা একটা অন্যায্য ও অন্যায় দাবি। আর দ্বিতীয়ত হচ্ছে নবম গ্রেডে বিসিএস অ্যাডমিন ক্যাডাররা আসেন। কাজেই এটা এককভাবে তাদের সঙ্গে সমাধানের কোনো বিষয় না। এটা হচ্ছে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বিষয়। এই পদে যে কেউ হুট করে চাইলেই যেতে পারে না।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, নবম গ্রেডে যাওয়ার ক্ষেত্রে কম্পারেটিভ একটা বিষয় এখানে রয়েছে। সে কারণে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, দিন দুয়েক আগে তারা এই দাবি উত্থাপন করেছে। এমন সময় যখন তাদের স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা চলছে। অথবা কোনো কোনো জায়গায় বার্ষিক পরীক্ষা বা টেস্ট পরীক্ষা যখন হবে, মূলত তারা যে হাতিয়ারটা ব্যবহার করছেন সেটা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের অস্ত্র হিসেবে তারা ব্যবহার করছেন। যেটা শিক্ষক হিসেবে চরম একটি অনৈতিক কাজ তারা করছেন।

উপদেষ্টা আরও বলেন, কাজেই আমরা তাদের অযৌক্তিক দাবি প্রত্যাখ্যান করছি এবং আমরা তাদের বলছি যে, আপনারা আগামীকাল থেকে পরীক্ষা নেন। অন্যথায়, সরকারি কর্মচারী হিসেবে বিধি লঙ্ঘনের দায়ে যে শাস্তি রয়েছে সেগুলোর জন্য আপনাদের কিন্তু তৈরি থাকতে হবে। এখানে সরকার একেবারে দৃঢ়ভাবে তার অবস্থান ব্যক্ত করছে। পরীক্ষায় কোনো রকমের আপস এখানে হবে না। পরীক্ষা আপনাদের নিতে হবে, যেন শিক্ষার্থীদের ওপরে যে চাপ এবং অভিভাবকদের ওপরেও যে চাপ সেটা যেন লাঘব হয়।

তিনি বলেন, সমস্ত জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি, তারা সবাই জানাচ্ছেন, পরীক্ষা দিতে ছাত্রছাত্রীরা আগ্রহী, অভিভাবকরা আগ্রহী। তবে একটি অংশ পরীক্ষা নিচ্ছে না। আমি বলবো, শিক্ষকরা আগামীকাল তাদের স্কুলের পরীক্ষা নেবেন। অন্যথায় তারা শাস্তির মুখোমুখি হবেন।

আরপি/এসএন

Share this news on:

সর্বশেষ

img
কোন পরিকল্পনায় মঈনকে আউট করেছেন রিপন? Jan 17, 2026
img
জরুরি বৈঠকে বসেছে জামায়াতে ইসলামী Jan 17, 2026
img
জিম্বাবুয়ের বোলিং পরামর্শক হলেন বাংলাদেশের সাবেক কোচ Jan 17, 2026
img
মৃণাল সেনের আচরণ ছিল অনন্য মন্তব্য করলেন অভিনেত্রী মমতা শঙ্কর Jan 17, 2026
img
রবি তেজার বিপরীতে নজরকাড়া অভিনয় অভিনেত্রী আশিকার Jan 17, 2026
img
রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে ৪ লাখের বেশি স্বেচ্ছাসেবকের যোগদান Jan 17, 2026
img
সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে পদ ছাড়লেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা Jan 17, 2026
img
বিদেশে সমুদ্রপাড়ে হট লুকে ধরা দিলেন ছোটপর্দার তারকা নিহা Jan 17, 2026
img
সিলেটে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল ২ জনের, আহত অন্তত ১০ Jan 17, 2026
img
রণবীরের হাত ধরে বলিউডে অভিষেক করছেন কল্যাণী! Jan 17, 2026
img
খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করতে হবে: আসিফ নজরুল Jan 17, 2026
img
বিএনপি ক্ষমতায় এলে নদীভাঙন রোধে উদ্যোগ নেওয়া হবে: নুরুদ্দিন অপু Jan 17, 2026
img
ইসরায়েলকে অবিলম্বে পশ্চিম তীরে বসতি প্রকল্প বন্ধের আহ্বান জানাল ইইউ Jan 17, 2026
img
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কণা ‘গিলে’ নিচ্ছে চাঁদ Jan 17, 2026
img
‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব : স্বাস্থ্য উপদেষ্টা Jan 17, 2026
img
রংপুরকে হারিয়ে স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে চায় ঢাকা Jan 17, 2026
img
বক্স অফিসে বিপর্যয়ের মুখে প্রভাসের নতুন ছবি ‘দ্য রাজা সাব’ Jan 17, 2026
img
পাকিস্তানে ট্রাক খালে পড়ে প্রাণ গেল এক পরিবারের ১৪ জনের Jan 17, 2026
img
বিশ্বে বায়ুদূষণে শীর্ষ শহর দিল্লি, ২য় অবস্থানে রাজধানী ঢাকা Jan 17, 2026
img
সংবিধান বিকৃতি রোধে আমরা চাই একটি স্থায়ী পরিবর্তন: পার্বত্য উপদেষ্টা Jan 17, 2026