© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বাদামী গাছফড়িং দমন ব্যবস্থাপনা

শেয়ার করুন:
বাদামী গাছফড়িং দমন ব্যবস্থাপনা
feature-desk
১০:৩০ এএম | ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

ধানের একটি মারাত্মক ক্ষতিকর পোকা বাদামী গাছ ফড়িং ( Brown Plant Hopper or BPH )। এই পোকা ধান গাছের গোঁড়ায় বসে রস শুষে খায়। ফলে গাছ পুড়ে যাওয়ার রং ধারণ করে মরে যায়। কৃষকের কাছে বাদামী গাছ ফড়িং ‘কারেন্ট পোকা’ বা ‘গুণগুণী’ পোকা নামেও পরিচিত।

বাদামী গাছ ফড়িং খুবই ছোট আকারের পোকা, প্রায় ৪ মি. মি. লম্বা ও বাদামী রঙের হয়। পূর্ণ বয়স্ক স্ত্রী ফড়িং পাতার খোল,পাতা ও পাতার মধ্য শিরার ভিতরে ডিম পাড়ে। ৭-৯ দিনের মধ্যে ডিম থেকে বাচ্চা (নিম্ফ) বের হয়। বাচ্চাগুলো ৫ বার খোলস বদলায়। প্রথম পর্যায়ে বাচ্চাগুলো সাদা রঙের হয় এবং পরে বাদামী রং ধারণ করে। বাচ্চা থেকে পূর্ণ বয়স্ক ফড়িং এ পরিণত হতে আবহাওয়া ভেদে ১৪-১৬ দিন সময় লাগে।

এক জোড়া পোকা ৩-৪ প্রজন্মে প্রায় ৩৫ লাখ পোকার জন্ম দেয় এবং ৫০ মাইল পথ অতিক্রম করতে পারে। এই পোকা শরীরের ওজনের তুলনায় ১০-১২ গুন বেশী খায়। বীজতলা থেকে শুরু করে পরিপক্ব হওয়া পর্যন্ত যেকোনো সময় এ পোকার আক্রমণ দেখা দিতে পারে। তবে কাইচথোর বের হওয়ার শুরু থেকে আক্রমণ বেড়ে যায়।

আক্রমণের অনুকূল পরিবেশ

  • অধিক কুশি উৎপাদনকারী জাতের চাষ।
  • গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া (গুমট অবস্থা)।
  • ছায়াযুক্ত স্থানে বাদামী গাছ ফড়িং দ্রুত বংশবৃদ্ধি পায়।
  • জমি স্যাঁত স্যাঁতে হলে ও জমিতে দাঁড়ানো পানি থাকলে।
  • ঘন করে চারা রোপণ করলে।
  • অধিক মাত্রায় ইউরিয়া সার ব্যবহার করলে।
  • বাতাস চলাচল কম হলে।
  • দিন ও রাতের তাপমাত্রা ১৮-২৫ ডিগ্রী সে. ও আর্দ্রতা ৮০% হলে।

আক্রমণের লক্ষণ
বাদামী গাছ ফড়িংয়ের বাচ্চা (নিম্ফ) ও পূর্ণাঙ্গ পোকা উভয়ই ধান গাছের গোঁড়ার দিকে দলবদ্ধভাবে অবস্থান করে ও সেখান থেকে অনবরত গাছের রস শুষে খেতে থাকে। এ পোকা ধান গাছের কুশি স্তর হতে পরিপক্ব হওয়া পর্যন্ত আক্রমণ করে। তবে panicle initiation ও milking stage এ বেশী ক্ষতি করে। ফলে গাছ প্রথমে হলুদ ও পরে শুকিয়ে মারা যায়, যা দুর থেকে পুড়ে যাওয়ার মতো দেখায়। এ ধরণের ক্ষতিকে হপার বার্ন বা বাজপোড়া বলা হয়।

বাদামী গাছফড়িং দমন ব্যবস্থাপনা

  • যেসব এলাকায় সব সময় বাদামী গাছফড়িংয়ের উপদ্রব হয়, সেসব এলাকায় তাড়াতাড়ি পাকে (যেমন চান্দিনা) এমন জাতের ধান চাষ করা।
  • বীজতলায় এ পোকার আক্রমণ দেখা দিতে পারে, সে জন্য নিয়মিত বীজতলা পরিদর্শন, আলোর ফাঁদ পেতে পোকার উপস্থিতি নির্ণয় করতে হবে।
  • জমির আইল পরিষ্কার রাখতে হবে।
  • ধানের চারা ৩০-৪০ সেন্টিমিটার দূরে দূরে লাগানো।
  • আক্রান্ত জমিতে ২ থেকে ৩ হাত দূরে দূরে ‘বিলিকেটে’ জমিতে সূর্যের আলো ও বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা করতে হবে।
  • শুধু ইউরিয়া ব্যবহার না করে সুষম মাত্রায় ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি ব্যবহার করতে হবে।
  • জমিতে পোকা বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে জমে থাকা পানি সরিয়ে ফেলা।
  • উর্বর জমিতে ইউরিয়া সারের উপরি প্রয়োগ পরিহার করা ।
  • বালাই সহনশীল জাতের (ব্রিধান ৩৫) চাষ করতে হবে।
  • সন্ধ্যাবেলা আক্রান্ত জমি থেকে একটু দূরে আলোর ফাঁদ জ্বালিয়ে পোকা দমনের ব্যবস্থা করতে হবে।

  • ক্ষেতে শতকরা ৫০ ভাগ গাছে অন্তত: একটি মাকড়সা থাকলে কীটনাশক প্রয়োগ না করা।
  • শতকরা ৫০ ভাগ ধান গাছে ২-৪টি ডিমওয়ালা স্ত্রী পোকা অথবা ১০টি বাচ্চা পোকা প্রতি গোছায় পাওয়া গেলে অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করা( যেমন এসাটাফ ৭৫ এসপি ৭৫০ গ্রাম /হেক্টর অথবা মার্শাল ২০ ইসি ১ লিটার/হেক্টর)।

 

টাইমস/জিএস

মন্তব্য করুন