টবে টমেটো চাষ ১২ মাস
সালাদ বা সবজি দুই ক্ষেত্রেই টমেটোর কদর অনেক। যা ভিটামিন আর স্বাদের দিক দিয়েও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। টমেটো শীতকালীন সবজি হলেও বর্তমানে এমন অনেক জাত রয়েছে, যার মাধ্যমে সারা বছর টমেটো চাষ করা যায়। এর চাষ পদ্ধতি জটিল না হওয়ায় খুব সহজে নূন্যতম শ্রম ব্যয় করে বাড়ির আঙ্গিনায়, ছাদে বা টবে টমেটো চাষ করে অনেক ফলন আহরণ করা যায়।
চাষ পদ্ধতি
টবে টমেটো চাষের প্রথম ধাপ হল মাটি প্রস্তুতকরণ। এর জন্য দুই ভাগ মাটির সঙ্গে এক ভাগ গোবর সার ও কিছু টিএসপি সার ভালোভাবে মিশিয়ে ১০-১২ দিন খোলা জায়গায় রেখে দিতে হবে। টমেটোর জন্য ৮ ইঞ্চি টব হলেই চলবে। এছাড়া দুই কেজি আঠার প্যাকেট কিংবা তিন ও পাঁচ লিটারের তেলের বোতলও ব্যবহার করা যায়। এ রকম প্রতিটি টবে একটি করে আর বড় টব হলে প্রতি টবে একাধিক চারা রোপণ করা যায়। চারা রোপণের পর টবটি শীতকাল হলে রোদে আর গরমকাল হলে হালকা রোদে রাখতে হবে।

অন্যান্য পরিচর্যা
টবের মাটি কয়েকদিন পরপর নিড়ানি দিয়ে হালকা আলগা করে দিন, যাতে গাছের গোঁড়ায় আগাছা জন্মাতে না পারে। গাছে ফুল আসতে শুরু করলে সরিষার খৈল পচা পানি পাতলা করে প্রতি ১০-১২ দিন পরপর নিয়মিত দিতে হবে। টমেটো চারা একটু বড় হলে প্রতিটি গাছের জন্য এক চা-চামচ পরিমাণ টিএসপি সার পুনরায় দিতে হবে। গাছটিকে একটি শক্ত কাঠির সঙ্গে বেধে দিতে হবে। পুরানো পাতাসহ কিছু ডাল ফেলে দিতে হবে, যাতে গাছটি বেশী ঝোপড়া না হয়ে যায়।
টমেটোর পোকামাকড় ও রোগবালাই
টমেটো গাছ অনেক সময় ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পাতা কোকড়িয়ে যায়। এক গাছ আক্রান্ত হলে কিছুদিনের মধ্যেই অন্য গাছও আক্রান্ত হয়। আস্তে আস্তে পুরো বাগানে ছড়িয়ে পড়ে। তাই কোনো গাছ ভাইরাসে আক্রান্ত হতে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে তা ধ্বংস করে ফেলতে হবে।
ভালো ফলন পেতে কিছু বাড়তি পরিচর্যা
- টমেটো গাছ যখন বেড়ে ওঠা শুরু করবে তখন টবের প্রায় পুরোটাই মাটি দিয়ে ভরে দিতে হবে। এতে গাছ ভালো বাড়বে।
- পর্যাপ্ত রোদ আসে এমন জায়গায় টবটি স্থাপন করুন, যাতে গাছ তার নিজের খাদ্য তৈরি প্রক্রিয়া সহজেই সম্পাদন করতে পারবে। আর রোদের তাপ খুব বেশি হলে বিকালের দিকে টব সরিয়ে নিন বা ছায়ার ব্যবস্থা করুন।
- মনে রাখবেন, টমেটো চাষে পানি সরবরাহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ, তাই নিয়ম করে দুই থেকে তিন দিন পরপর পানি দেয়াই ভালো, তবে গাছ বড় হয়ে গেলে পানি সরবরাহ বাড়াতে হবে।

- এছাড়া টমেটো গাছটি নেট দিয়ে ঢেকে দিতে পারেন, তাতে পোকামাকড়ের আক্রমণ করার সুযোগ কমে যাবে।
- গাছের বয়স ছয় সপ্তাহ হওয়ার পর প্রতি সপ্তাহে গাছের গোঁড়ায় একটু করে সার দিতে পারেন।
- অতিরিক্ত শীত ও গরমের সময় মাটির সঠিক আর্দ্রতা ধরে রাখতে দিতে পারেন শুকনো পাতা বা বাড়ির শাকসবজির উচ্ছিষ্ট খোসা। এতে সারেরও কাজ হবে এবং তাপমাত্রার নেতিবাচক প্রভাব থেকে গাছের মূল রক্ষা পাবে।
টাইমস/জিএস