মা-বাবার সঙ্গে সন্তানদের মতানৈক্য বা তর্কাতর্কি সব সময় খারাপ নয় বলে মন্তব্য করেছেন বলিউড অভিনেত্রী কাজল মুখার্জী দেবগান। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে নিজের দুই সন্তান নাইসা ও যুগকে বড় করে তোলার অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলাখুলি এসব কথা বলেন তিনি। তার কথায় উঠে আসে মা-সন্তানের সম্পর্ক, তর্কের গুরুত্ব এবং ছেলে-মেয়ের ভিন্ন বাস্তবতা।
কাজলের মতে, সন্তানদের সঙ্গে মাঝেমধ্যে তর্ক হওয়া আসলে খারাপ কিছু নয়।
বরং এতে বোঝা যায়, তারা নিজের মতো করে ভাবতে শিখেছে, নিজের মতামত তৈরি করতে পেরেছে। সন্তান যদি মা-বাবার সঙ্গে যুক্তি দিয়ে কথা বলতে পারে, সেটাই তাদের শিক্ষার সাফল্য। কাজল মনে করেন, সন্তানদের স্বাধীন চিন্তাশক্তি গড়ে ওঠা একজন অভিভাবকের জন্য গর্বের বিষয়।
হালকা মজার ছলে কাজল তার মায়ের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথাও বলেন।
যদিও তিনি দাবি করেন, ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে কখনো ঝগড়া করতেন না, তার মা তনুজা হাসতে হাসতে বলেন, আসলে ব্যাপারটা ছিল ঠিক উল্টো!
মেয়ে ও ছেলেকে বড় করার পার্থক্য
এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাজল বলেন, ‘দেশে একটি মেয়েকে বড় করে তোলার বাস্তবতা কঠিন।’ নিজের মেয়ে নাইসার কথা টেনে তিনি বলেন, ‘সে বিদেশে পড়াশোনা করে বড় হয়েছে, তাই তার দৃষ্টিভঙ্গি অনেক বেশি স্বাধীন। কিন্তু দেশে ফিরে এলে কাজলকে বারবার তাকে সতর্ক করতে হয়কী পরবে, কোথায় যাবে, কাদের সঙ্গে থাকবে এসব বিষয় নিয়ে। একজন মা হিসেবে এটা করতে গিয়ে তার নিজেরও খারাপ লাগে, কারণ একই নিয়ম তার ছেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।’
কাজল স্বীকার করেন, তার ছেলে যুগ খুব সহজে বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে। কিন্তু মেয়ের ক্ষেত্রে সমাজ অনেক বেশি প্রশ্ন তোলে। এই অসমতা তার মেয়েও বুঝতে পারে। কাজলের কথায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তিনি শুধু একজন মা নন, একজন মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে লড়াই করা একজন নারীও।
সব মিলিয়ে কাজলের কথাগুলো আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, আজও সমাজে ছেলে আর মেয়ের জন্য নিয়ম এক নয়।
আর একজন সচেতন মা হিসেবে কাজল সেই বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েই নিজের সন্তানদের বড় করছেন।
সূত্র : এনডিটিভি
আরপি/এসএন