বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার (এনইআইআর) পদ্ধতি চালু করেছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে এই পদ্ধতির মাধ্যমে মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তবে, এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা এনইআইআর পদ্ধতি স্থগিত করার দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকাল ৪টার পর মোবাইল ব্যবসায়ীরা বিটিআরসি কার্যালয়ে আকস্মিকভাবে হামলা ও ভাঙচুর চালান।
এ সময় তারা ইটপাটকেল ছুড়ে মারে, যার কারণে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার ইবনে মিজান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে।
বিটিআরসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার সময় তারা আসরের নামাজ পড়ছিলেন এবং হঠাৎ করে ইটপাটকেল ছোঁড়ার শব্দ শুনতে পান। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিটিআরসি কর্মকর্তারা জানান, এনইআইআর পদ্ধতি চালু করার পেছনে উদ্দেশ্য হলো অবৈধভাবে দেশে আসা নিম্নমানের, ক্লোনড এবং ব্যবহৃত ফোনগুলো বন্ধ করা।
এনইআইআর পদ্ধতির মাধ্যমে বৈধভাবে মোবাইল ফোনের নিবন্ধন নিশ্চিত করা হবে এবং অবৈধভাবে দেশে আনা ফোনগুলো আর ব্যবহার করা যাবে না।
সরকারের অভিযোগ, কিছু ব্যবসায়ী কর ফাঁকি দিয়ে অবৈধ রুটে এসব নিম্নমানের ফোন আমদানি করেন, যার কারণে বাজারে অপর্যাপ্ত মানের ফোন পৌঁছাচ্ছে।
এনইআইআর চালু হওয়ার পর থেকে সরকার অনুমোদিত হ্যান্ডসেট ছাড়া কোনো ফোন নেটওয়ার্কে সংযুক্ত থাকতে পারবে না। তবে এনইআইআর কার্যকরের আগ পর্যন্ত ব্যবহৃত ফোনগুলো বন্ধ হবে না।
এনইআইআর পদ্ধতি চালু করার আগে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিনে এটি চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদের কারণে তা এক সপ্তাহ পিছিয়ে ১ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়।