“ওই সময় দাঁড়িয়ে এমন একটা চরিত্র করতে রাজি হয়েছিলেন তিনি, যেখানে ক্লাইম্যাক্সে নায়কের মৃত্যু হয়।”
চলচ্চিত্র অনুরাগী ও সৃজনশীল এক পরিবারে বেড়ে ওঠা সালমান খানের হাত ধরে বলিউডে বহু সিনেমা হয়েছে তুমুল জনপ্রিয়। হয়েছে ব্যবসাসফলও। ৬০ বছর বয়সী এই তারকা অভিনেতা একবার এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, যা সব নায়কের কাছে হয়েছিল প্রত্যাখিত।
বলিউড শাদিস ডটকম লিখেছে, ‘ফির মিলেঙ্গে’ সিনেমায় এইচআইভি আক্রান্ত এক যবুকের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সালমান। আর ওই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি যে অংকের পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন, সেটিও ইতিহাস হয়ে আছে।
কিছুদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে ‘ফির মিলেঙ্গে’ সিনেমার প্রযোজন শৈলেন্দ্র সিংহ বলেন, ২০০৪ সালে যখন এই সিনেমা বানানো হয়, সে সময় এ ধরনের বিষয়বস্তু নিয়ে কাজ করতে গেলে কেবল সমস্যাতেই পড়তে হত। বিষয়টিকে তিনি বর্ণনা করেছেন বলিউডের ‘ছুৎমার্গ’ হিসেবে।
শৈলেন্দ্র সিংহ বলেন, “এই বিষয়ে সিনেমা বানাতে গিয়ে বলিউডে সুপারস্টারদের রাজি করানো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। সবাই না করে দেন। প্রেমের সিনেমাতেই বিশেষ নজর দিত বলিউড। সেই সময়ে দাঁড়িয়ে নিজের ভাবমূর্তির কথা না ভেবে, এমন একটা চরিত্র করতে রাজি হয়েছিলেন সালমান। উদ্দেশ্য ছিল, শুধুমাত্র যুবসমাজকে সচেতন করা।” শৈলেন্দ্র সিংহ জানান, সালমান অভিনয়ের জন্য পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন মাত্র ১ টাকা।
শৈলন্দ্রের কথায়, “সালমান যেখানে বলিউডের ‘সুপারম্যান’। ওই সময় দাঁড়িয়ে এমন একটা চরিত্র করতে রাজি হয়েছিলেন তিনি, যেখানে ক্লাইম্যাক্সে নায়কের মৃত্যু হয়। সাধারণ নায়কেরা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ফ্রেম জুড়ে থাকতে চান। কিন্তু সালমান যুবসমাজের জন্য এমন একটা সিনেমা করেন, যেটা তখন কেউ ভাবতেই পারত না।’’
পার্শ্বচরিত্র দিয়ে বলিউডে পথচলা শুরু করেছিলেন সালমান। ‘বিবি হো তো অ্যায়সি’ সিনেমায় ছোট্ট একটি চরিত্রে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান তিনি। এরপর আসে তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া সিনেমা ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’। রোমান্টিক নায়ক হিসেবে নিজেকে শুরুতেই প্রতিষ্ঠিত করেন চিত্রনাট্যকার-প্রযোজক সেলিম খানের ছেলেন সালমান।
সালমানের ব্যক্তি জীবনও যেন সেলুলয়েডের পর্দা। তাতে রং ও বেরঙ দুটোই আছে। সাফল্য-ব্যর্থতা, প্রেম-বিচ্ছেদ, একাকী জীবন নিয়ে বহু বিতর্ক তার পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে। এখন সেসবের সঙ্গে যোগ হয়েছে নিরাপত্তা ঝুঁকি।
সালামনকে দুই বছর ধরে লাগাতার প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের দল। এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে কৃষ্ণকায় হরিণ হত্যার অপরাধে বদলা হিসেবে সালমানকে তারা ‘হত্যা করবেন’।
চাইলে সাঁতারু হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারতেন সালমান। স্কুলে পড়ার সময় বহুবার সাঁতার প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি দেশের বাইরেও সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন।
এদিকে নানা ধরনের দাতব্য কাজে সালমানের সম্পৃক্ততা অনেক বছর ধরে। নিজের দাতব্য সংস্থা ‘বিয়িং হিউম্যানের’ মাধ্যমে জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজ করেন সালমান। বিশেষ করে দরিদ্র শিশুদের চিকিৎসাসহায়তা, হৃদরোগ ও জটিল অপারেশনের খরচ বহন, শিক্ষাসহায়তা, স্কলারশিপ, বই-খাতা-শিক্ষাসামগ্রী দেওয়া, বিশেষ শিশুদের সহায়তার কাজে সালমানের এই সংস্থাটির কাজ চোখে পড়ার মত।
এছাড়া নিয়মিত রক্তদান কর্মসূচিতেও অংশ নেন সালমান।
আইকে/টিএ