আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের ঠিক ১৫ বছরের মাথায় অবসরের ঘোষণা দিলেন উসমান খাজা। প্রথম মুসলিম হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা এই ব্যাটার ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টানতে যাচ্ছেন। যে সিডনিতে শুরু হয়েছিল ক্যারিয়ার, সেই প্রিয় মাঠেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষবার অস্ট্রেলিয়ার জার্সি পরছেন তিনি।
৮৭ ম্যাচে ৬২০৬ রান ও ১৬ সেঞ্চুরি নিয়ে শেষ টেস্ট খেলতে নামবেন খাজা। ৩৯ বছর বয়সী ব্যাটার বললেন, ‘আমি এটা নিয়ে ভাবছিলাম, পুরোপুরি নয় তবে বেশ কিছুদিন ধরেই।’ সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সংবাদ সম্মেলন কক্ষে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে রেখে অবসরের ব্যাপারে বললেন তিনি, ‘এই সিরিজে আসার সময় আমার মাথায় কাজ করছিল যে সম্ভবত এটাই হতে যাচ্ছে আমার শেষ সিরিজ।’
খাজা বলে গেলেন, ‘আমি রেচেলের (খাজার স্ত্রী) সাথে এটা নিয়ে বেশ আলোচনা করেছি এবং আমি জানতাম যে এটাই বড় সুযোগ। আমি দরজা একেবারে পুরোপুরি বন্ধ করে দিইনি, কারণ আমি জানতাম যে খেলা চালিয়ে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকতে পারে। এমনকি কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডও একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত, যখন আমি কয়েক দিন আগে তাকে জানালাম তিনি তখনও ভাবছিলেন কীভাবে আমাকে (২০২৭ সালের) ভারত সফর পর্যন্ত দলে রাখা যায়।’
তিনি বললেন, ‘আমি খুশি যে আমি নিজের মতো করে বিদায় নিতে পারছি, কিছুটা মর্যাদা নিয়ে এবং আমার প্রিয় এই এসসিজিতেই শেষ করতে পারছি। তবে আমার মনে হয় এই সিরিজের শুরুটা বেশ কঠিন ছিল। এরপর অ্যাডিলেডে গিয়ে যখন দেখলাম শুরুতে আমি একাদশে নেই, সেটাই সম্ভবত আমার জন্য সংকেত ছিল যে-ঠিক আছে, এবার এগিয়ে যাওয়ার সময় হয়েছে।’
গত দুই বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে অবসরের কথা ভেবেছিলেন খাজা। গত মৌসুমে ভারতের বিপক্ষে বক্সিং ডে টেস্ট খেলে শেষ করার ভাবনা কোচকে জানান তিনি, ‘আমি তাকে (কোচকে) বলেছিলাম, এই মুহূর্তে যেকোনো পর্যায়ে আপনি যদি চান আমি অবসর নেই, তবে আমি এখনই অবসর নেব।আমার কোনো সমস্যা নেই। আমি নিজের স্বার্থে আঁকড়ে ধরে নেই।’
চলতি সিরিজে পার্থে চোট পেয়ে ব্রিসবেন টেস্ট থেকে বাদ পড়েন খাজা। অ্যাডিলেডের একাদশেও ছিলেন না। তবে স্টিভ স্মিথ অসুস্থ হয়ে বাদ পড়ায় সুযোগ পান এই ব্যাটার এবং ঝলমলে ইনিংস খেলেন। যদিও মেলবোর্নে দুই ইনিংসে ২৯ ও ডাক মারায় তার অবসরের দাবি ওঠে সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের কাছ থেকে।
খাজা বললেন, ‘সবচেয়ে বিরক্তিকর বিষয় ছিল এটাই যে, আমার মনে হচ্ছিল মানুষ আমাকে আক্রমণ করছে। আমার মনে হচ্ছিল তারা বলছে আমি দলে টিকে থাকার জন্য স্বার্থপরতা করছি। কিন্তু আমি নিজের জন্য দলে থাকছিলাম না।’
আরও আগেই অবসরের চিন্তা মাথায় এসেছিল তার, ‘অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড কার্যত আমাকে বলেছিলেন- না, আমি চাই তুমি থাকো। শ্রীলঙ্কা সিরিজ এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য তোমাকে আমাদের প্রয়োজন। আমি চাই তুমি খেলা চালিয়ে যাও। আর তাই আমি থেকে গিয়েছিলাম।’
খাজা নিশ্চিত করলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের পর ব্রিসবেন হিটের হয়ে বিগ ব্যাশ খেলা চালিয়ে যাবেন তিনি। গ্রীষ্মে কুইন্সল্যান্ডের হয়ে শেফিল্ড শিল্ড ক্রিকেটও খেলার ইচ্ছা তার।
২০১০-১১ সিরিজে শেষ টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক হয়েছিল খাজার, এই সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। সেখানেই একই প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলে ক্যারিয়ার শেষ করতে চলেছেন তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে দলে অনিয়মিত হলেও দুই বছরের বিরতি দিয়ে ২০২১-২২ অ্যাশেজে ফেরেন খাজা। কোভিডে আক্রান্ত ট্রাভিস হেডের স্থলাভিষিক্ত হয়ে সিডনিতে জোড়া সেঞ্চুরি করেন। সুযোগ পেয়ে যান ওপেনিংয়ে। তারপর থেকে অ্যাশেজ সিরিজে ব্যাক স্পাজমের আগে পর্যন্ত আর কোনো টেস্ট থেকে বাদ পড়েননি তিনি।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ খাজার ব্যাপারে বলেছেন, ‘১৫ বছর আগে টেস্ট অভিষেকের পর থেকে আমাদের অন্যতম মার্জিত ও লড়াকু ব্যাটার হিসেবে অসাধারণ অর্জনের মাধ্যমে এবং মাঠের বাইরে বিশেষ করে 'উসমান খাজা ফাউন্ডেশন'-এর মাধ্যমে উসমান অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে বিশাল অবদান রেখেছেন। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের পক্ষ থেকে আমি উসমানকে তার সকল অর্জনের জন্য ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাতে চাই।’
এমআই/এসএন