বছরের শেষ দিন মানেই ফেলে আসা সময়ের দিকে ফিরে তাকানো। ভালো স্মৃতি, কষ্টের অভিজ্ঞতা আর না বলা কথার ভার—সব মিলিয়েই বছরের শেষটা হয়ে ওঠে আবেগের। ঠিক সেই আবহেই নিজের মনের গভীরের কথা প্রকাশ্যে আনলেন অভিনেতা অভ্রজিত চক্রবর্তী। বছরশেষের মুহূর্তে এক অসমবয়সী বন্ধুকে ঘিরে লেখা তাঁর আবেগঘন কথায় ছুঁয়ে গেল অনুরাগীদের মন।
টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর মাধ্যমে দর্শকের কাছে পরিচিত অভ্রজিত। এর আগে একাধিক ধারাবাহিকে কাজ করলেও বর্তমানে আর্য সিংহ রায়ের বন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। পর্দায় বন্ধুত্বের গল্প চললেও বাস্তব জীবনে তাঁর সবচেয়ে কাছের মানুষটি হলেন ‘অপর্ণা’র বাবার চরিত্রে অভিনয় করা শ্যামশীস পাহাড়ী। বয়সের ফারাক থাকলেও সম্পর্কের গভীরতায় কোনও দূরত্ব নেই, আর সেই কথাই বছর শেষে প্রকাশ্যে আনলেন অভ্রজিত।
সামাজিক মাধ্যমে বন্ধুর সঙ্গে ছবি ভাগ করে নিয়ে অভ্রজিত লেখেন, বছরের শেষ দিনে এই মানুষটাকে নিয়েই কিছু বলতে ইচ্ছে হচ্ছে। তাঁর মতে, পাড়ার বন্ধুত্বের বাইরে কর্মজীবনে এতটা নিঃস্বার্থ মানুষ খুব কমই দেখা যায়। একাধারে বাবা, শিল্পী ও গায়ক হয়েও যিনি সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে একজন নিখাদ বন্ধু, যিনি কখনও হিসেব কষে সম্পর্ক রাখেন না।
বন্ধুর দৈনন্দিন অভ্যাসের কথাও উঠে এসেছে সেই লেখায়। শ্যামশীস পাহাড়ী নিজে বাড়ি ফেরার আগে গাড়ি চালিয়ে সবাইকে বাড়ি পৌঁছে দেন। নিজের সুখের খবর চেপে রাখতে পারেন না, আবার দুঃখ একাই সামলে নেন। সামাজিক মাধ্যমে কটূক্তি দেখলেও রাগ না করে বোঝার চেষ্টা করেন। নিজে খেয়েছেন কি না বলার আগে অন্যদের জিজ্ঞেস করেন, খেয়েছিস তো?
অভিনয় ও ব্যক্তিত্বের প্রশংসায়ও অকুণ্ঠ অভ্রজিত। তাঁর কথায়, অভিনয়ের সময় দর্শকদের কাঁদিয়ে দিয়ে পরমুহূর্তে একগাল হেসে জিজ্ঞেস করেন, কেমন হলো। রাগ বলতে তাঁর মধ্যে কোনওদিন কিছু দেখেননি। চোখ বন্ধ করে গান শুনলে মনে হয় যেন কোনও কনসার্ট চলছে। এমনকি দোকানদার ভুল করে বেশি টাকা ফেরত দিলে গাড়ি ঘুরিয়ে তা ফিরিয়ে দিতে যান এই মানুষটিই তাঁর বন্ধু।
সবশেষে অভ্রজিত লেখেন, এই বন্ধুকে নিয়ে তিনি গর্বিত। নতুন বছরে তাঁর জীবনে যেন আরও ভালো সময় আসে, সেই কামনাই করেছেন অভিনেতা। বছরশেষের এই আবেগঘন পোস্টে অনুরাগীরাও সুর মিলিয়েছেন, প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন এই বন্ধুত্বকে, যা সম্পর্কের সংজ্ঞাকে যেন আরও একবার নতুন করে ভাবতে বাধ্য করল।
এমকে/এসএন