ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার এডেন বিমানবন্দর থেকে সব ফ্লাইট স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে কবে নাগাদ ফ্লাইট পুনরায় চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণ ইয়েমেনভিত্তিক বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) এবং সৌদি আরব-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যদিও এসটিসি ২০১৫ সাল থেকে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ, তবুও তারা দক্ষিণ ইয়েমেনে একটি আলাদা রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে সক্রিয় রয়েছে।
ডিসেম্বরে এসটিসি সৌদি আরব-সংলগ্ন হাজরামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশে সামরিক তৎপরতা বাড়ালে উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায়। সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এসটিসিকে অস্ত্র সরবরাহ করছে এবং এসব অঞ্চলে তাদের বিস্তারে উৎসাহ দিচ্ছে, যা সৌদি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তবে ইউএই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এদিকে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অধীন এসটিসি-সমর্থিত পরিবহন মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, সৌদি আরব নতুন একটি শর্ত আরোপ করায় এডেন বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এডেন থেকে পরিচালিত ফ্লাইটগুলোকে জেদ্দায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
মন্ত্রণালয় জানায়, তারা এ সিদ্ধান্তে ‘বিস্মিত’ হয়েছে। পরে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, এ বিধিনিষেধ শুধু এডেন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে চলাচলকারী ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
তবে একটি সৌদি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ফ্লাইট সীমাবদ্ধতার পেছনে সৌদি আরব জড়িত নয়; বরং ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের নেতৃত্বাধীন সরকারই ইউএইগামী ফ্লাইটের ক্ষেত্রে এই শর্ত আরোপ করেছে।
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা থাবেত আল-আহমাদি আল জাজিরাকে বলেন, এডেন থেকে একটি নির্দিষ্ট রুটে এই শর্ত কার্যকর করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য এসটিসির অর্থ পাচার রোধ করা। তিনি আরও বলেন, সরকার পুরোপুরি ফ্লাইট বন্ধের পক্ষে নয় এবং আকাশপথে যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে চায়।
এর আগে চলতি সপ্তাহে ইউএই ইয়েমেন থেকে তাদের অবশিষ্ট ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ বাহিনী প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। এর কিছু আগে সৌদি আরব দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী মুকাল্লায় একটি ইউএই-সংযুক্ত অস্ত্র চালান লক্ষ্য করে হামলার দাবি করে।
বুধবার ইয়েমেনের সরকারপ্রধান রাশাদ আল-আলিমি সতর্ক করে বলেন, এসটিসি যদি সংশ্লিষ্ট প্রদেশগুলোতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার চেষ্টা করে, তবে তার মারাত্মক পরিণতি হবে। তবে এসটিসি এ হুঁশিয়ারিকে উপেক্ষা করে জানিয়েছে, তারা ওই প্রদেশগুলোতেই থাকবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করার পর থেকেই ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চলছে। বর্তমানে হুথিরা দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে, আর দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে এসটিসি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব অব্যাহত রয়েছে।
আরপি/এসএন