বিপুল সম্পদ, জমি ও মাসে মোটা অঙ্কের ভাতার বিনিময়ে তৃতীয় স্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন মালয়েশিয়ান অভিনেত্রী ও সাবেক বিউটি কুইন অ্যামি নূর তিনি।
সম্প্রতি মালয়েশিয়ান কনটেন্ট ক্রিয়েটর সাফওয়ান নাজরির একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে এমন বিস্ফোরক দাবি করেন ২৯ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী।
পডকাস্টে অ্যামি জানান, প্রস্তাবটি এসেছিল একজন প্রভাবশালী ভিভিআইপির কাছ থেকে, যিনি মালয়েশিয়ায় সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদার অধিকারী। তৃতীয় স্ত্রী হওয়ার বিনিময়ে তাকে একটি বিলাসবহুল বাংলো, একটি গাড়ি এবং প্রায় ১০ একর (৪০ হাজার বর্গমিটার) জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
পাশাপাশি হাতখরচ হিসেবে প্রতি মাসে ৫০ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১১ লাখ টাকার সমপরিমাণ, ভাতা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল।
অ্যামি আরো জানান, কর্পোরেট ইভেন্ট উপস্থাপনার কাজ করতে গিয়ে তাকে প্রায়ই প্রভাবশালী ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের মুখোমুখি হতে হয়। ২০১৯ সালে, যখন তার বয়স ছিল মাত্র ২৩ বছর এবং তিনি একটি আন্তর্জাতিক সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য স্পনসর খুঁজছিলেন, তখনই এই প্রস্তাবটি পান তিনি।
প্রস্তাবদাতা ব্যক্তি ছিলেন একজন ‘দাতুক’-মালয়েশিয়ার একটি সম্মানসূচক উপাধিধারী ব্যক্তি, যার বয়স ছিল অ্যামির বাবার কাছাকাছি।
এই প্রস্তাব অ্যামি ও তার মা দুজনেই তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। বিষয়টি নিয়ে অ্যামি বলেন, “আমার মা খুব দৃঢ়ভাবে এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। তিনি আমাকে কখনোই বিক্রি করতে রাজি ছিলেন না।”
পডকাস্টে নিজের ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গী সম্পর্কেও কথা বলেন অভিনেত্রী।
তিনি জানান, দায়িত্বশীল ও আর্থিকভাবে স্থিতিশীল একজন সঙ্গী চান তিনি, তবে অতিরিক্ত ধনী হওয়া তার কাছে শর্ত নয়।
রসিকতা করে অ্যামি বলেন, “দেখতে যদি আয়রন ম্যানের মতো হয়, সমস্যা নেই। কিন্তু কোনো দাদুর মতো যেন না হয়।”
অ্যামি নূর তিনির ভাষ্য, তিনি কারো ওপর নির্ভর না করে নিজের পরিশ্রমে, হালাল পথে উপার্জন করতে চান এবং বাবা-মায়ের সেবায় জীবন কাটাতে চান।
সম্মান বিসর্জন দিয়ে ধনী হওয়ার কোনো আগ্রহ নেই বলেও স্পষ্ট করে জানান এই অভিনেত্রী।