শুটিং ফেডাারেশনের যুগ্ম সম্পাদক জিএম হায়দার সাজ্জাদের বিরুদ্ধে যৌন ও মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ ছিল। শুটারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এ নিয়ে তদন্ত কমিটিও গঠন করেছিল। সেই কমিটির প্রতিবেদনের আগেই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জিএম হায়দার সাজ্জাদকে শুটিং ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।
১ জানুয়ারি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক মোঃ দৌলতুজ্জামান খান এই সংক্রান্ত আদেশে স্বাক্ষর করেন। সেই চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, 'যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে প্রদত্ত এ নির্দেশনা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।' জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন-২০১৮ অনুযায়ী ফেডারেশনের কমিটি গঠনের এখতিয়ার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের রয়েছে। বিশেষত এডহক কমিটির কর্মকর্তাদের যেকোনো মুহুর্তে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে এনএসসির।
জিএম হায়দারকে এনএসসি অব্যাহতি দেয়ার দিনই আবার নারী শুটার কামরুন নাহার কলিকে শুটিং ফেডারেশন সাময়িক বহিষ্কার করেছে। শুটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আরা খানম স্বাক্ষরিত চিঠিতে কলিকে তিন কর্ম দিবসের মধ্যে কেন তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না এজন্য কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। কলিকে সাময়িক বহিষ্কারের চিঠিতে ফেডারেশনের কোড অফ কন্ডাক্টের কয়েকটি ধারা ভঙ্গের অভিযোগ এনেছে ফেডারেশন। কলি অলিম্পিকের বৃত্তির আওতায় রয়েছেন। এজন্য অলিম্পিক এসোসিয়েশনকেও অবহিত করেছে শুটিং ফেডারেশন। শুটিং ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের ধারণা, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চিঠির প্রেক্ষিতেই কলির ওপর ফেডারেশনের এমন শাস্তি আরোপ।
সাবেক শুটার জিএম হায়দার সাজ্জাদকে নিয়ে শুটারদের অভিযোগ ছিল। ফেডারেশন অ্যাডহক কমিটি গঠনের আগেই বেশ কয়েকজন শুটার হায়দারকে কমিটিতে না রাখার জন্য ফেডারেশনে চিঠি দিয়েছিল। সার্চ কমিটি বিতর্কিত ব্যক্তি সাজ্জাদকে কমিটিতে রাখার জন্য সুপারিশও করেনি। এরপরও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রজ্ঞাপনে সাজ্জাদের নাম দেখা যায় যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে। ক্রিকেট, ফুটবলের বাইরে অন্য সকল ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক নির্ভর।
শুটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলেয়া ফেরদৌস হলেও চালিকাশক্তি মূলত সাজ্জাদের হাতেই। তিনি ফেডারেশনের আসার পরপরই শুটারদের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। বিশেষত নারী শুটাররা একের পর এক অভিযোগ করেন। সাজ্জাদের অত্যাচার নিপীড়ন নিয়ে শুটাররা মানব বন্ধন, মামলাও করেন।
নারী নিপীড়নের সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সাবেক সাঁতারু নিবেদিতা দাসকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়। নিপীড়ন সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্তে তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তদন্ত কমিটিকেও অভিযুক্ত সাজ্জাদ তেমন সহযোগিতা করেনি। বেশ কয়েক দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর ১৭ ডিসেম্বর তদন্ত কমিটির সামনে এসে তিনি সাক্ষ্য দেন।
তদন্ত কমিটি রিপোর্ট অধিকতর তথ্য ও যুক্তি নির্ভর করতে কিছু প্রশ্ন দিয়েছিলেন সাজ্জাদ ও শুটিং সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে। এর মধ্যে কোচ শারমিন সেই উত্তরগুলো দিয়েছেন। সাজ্জাদ এখনো লিখিত কোনো উত্তর দেননি। সাজ্জাদের অসহযোগিতার জন্য তদন্ত কমিটি সেই রিপোর্ট এখনো জমা দিতে পারেনি। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, সাজ্জাদের অসহযোগিতার বিষয়টি উল্লেখ করেই আগামীকাল সেই রিপোর্ট জমা দেয়ার কথা।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির পাশাপাশি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও একটি আলাদা কমিটি গঠন করেছিল। ২২ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব লিলি বিলকিস বানুকে আহ্ববায়ক, সিনিয়র সহকারী সচিকে (ক্রীড়া শাখা-১) সদস্য সচিব এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক প্রশাসনকে সদস্য করে আরেকটি কমিটি হয়েছিল শুটিং ফেডারেশনের নারী খেলোয়াড়ের যৌন হয়রানি সংক্রান্ত বিষয়ে। সাধারণত তদন্তধীন অবস্থায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দায়িত্ব পালনে বিরত রাখা হয়। কিন্তু সাজ্জাদ তদন্ত চলাকালীন সময়েও ফেডারেশনে সক্রিয় ছিলেন।
আরআই/টিকে